25/04/2026
রক্তাভ জলছবি
----------------------
হে সময়, তুমি আজ কার পাশে দাঁড়াবে?
মণিপুরের পাহাড়ে এখন কেবল পোড়া মাংসের ঘ্রাণ,
বিষ্ণুপুরের মাটিতে যখন পাঁচ বছরের শিশুর রক্ত শুকোয়নি—
যখন তার ছয় মাসের বোনের নিথর দেহ বোমার আঘাতে ছিটকে পড়ে,
তখনো কি আমরা আগামীর উন্নয়নের গান গাইব?
চৈত্রের তাপে আজ ইম্ফল থেকে মৈরাং জ্বলছে দাউদাউ,
বস্তি পুড়ে ছাই, ঘর হারিয়ে মানুষ আজ নিজের দেশে পরবাসী;
রক্তাক্ত সেই মানচিত্রে কি মৈফলের কোনো রঙ অবশিষ্ট আছে?
আর এদিকে, হুগলির বুকে ভোরের আলোয় মায়াবী বিভ্রম,
গঙ্গার ঢেউয়ে দুলছে নৌকা, রাজকীয় ঢঙে আসীন কাণ্ডারি;
হাতে ক্যামেরা, চোখে লেন্সে ধরা পড়ছে বিদ্যাসাগর সেতুর মহিমা,
‘বাংলার আত্মা’ খুঁজতে যখন চলে ভক্তিভরে এই ফটোশুট—
তখন সেই আত্মার এক অংশ কি ড্রোনের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে না?
যখন হাওড়া ব্রিজের ছায়ায় চলে ক্ষমতার বিজ্ঞাপন,
তখন সীমান্তের ওপারে কামানের গর্জনে ভেঙে পড়ে ধুঁকতে থাকা শৈশব।
হেলিকপ্টারের পাখায় ওড়ে যুদ্ধের ধুলো আর ভোটের রঙিন ইশতেহার।
রোড-শো’র গাদাফুলে ঢাকা পড়ছে স্বজন হারানোর হাহাকার,
কৃষ্ণনগর থেকে মেটিয়াবুরুজ— রাজপথ আজ চড়া সুরের শ্লোগানে বন্দি;
বাংলার ভোটে যখন গদি দখলের প্রবল নির্লজ্জ আস্ফালন,
মণিপুরের পাহাড়ে তখন মা হারানো শিশুর চিৎকার মাটি চাপা পড়ে।
তৃষ্ণার্ত মানুষের হাহাকারের চেয়েও কি আজ বড় হয়ে উঠল ব্যালট পেপার?
নাকি এই সাজানো বাগানই আমাদের অন্ধত্বের শেষ ঠিকানা?
নেতা হাসেন ক্যামেরার ফ্রেমে, জনতা ঘামেন মিছিলে—
আর ওদিকে পাহাড়ি ঝর্ণার জলে ভেসে যায় বুলেটে বিদ্ধ এক একটি নাম।
হে সময়, তুমি চিরকাল সাক্ষ্য থেকো—
যখন বিষ্ণুপুরের আকাশে ড্রোনের মৃত্যুঘণ্টা বাজছিল অবিরত,
আমরা তখন গঙ্গার ঘাটে রাজকীয় নৌকাবিহারে মগ্ন ছিলাম।
ব্যালট বক্সের লোভে যখন অন্ধ এই উন্নয়নের দম্ভ,
রক্তাক্ত কামানের নলের পাশে বড় বেমানান এই ভোটের মহোৎসব।
মানুষের জীবনের চেয়ে কি ক্ষমতার সিংহাসন আজ অনেক দামী?
পাহাড়ের আগুন যদি নেভাতে না পারো, তবে জেনে রেখো—সে আগুনের শিখা একদিন তোমার সাজানো গঙ্গার ঘাটকেও ছুঁয়ে যাবে।