01/12/2019
হায়দরাবাদের হতভাগ্য এক ভেটেনারি সার্জেনকে গনধর্ষন করে নৃশংসভাবে খুন করেছে কিছু জঘন্যতম দুষ্কৃতিকারী।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোসাল মিডিয়ায় ঊষ্মাপ্রকাশ করে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইনজীবিদের প্রতিও বিষোদগার করে অনেকেই পোস্ট করেছেন।এই ধরনের পোস্ট যারা করেছেন তাদের মধ্যে যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক দিয়ে অতি সাধারন মানুষ আছেন, তেমনি আছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রাক্তন সাংসদ ডঃ অনুপম হাজরার মত অতি উচ্চশিক্ষিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও।আবার কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তিরা অতি আবেগের বশে ধর্ষিতা এবং খুন হয়ে যাওয়া হতভাগ্য মহিলাটির নাম,পরিচয় এবং ছবি সোসাল মিডিয়ায় প্রচার করে বসেছেন। এটাও যে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং এর জন্যে যে IPCএর 228(a) ধারায় দুবছরের কারাদন্ড এবং আর্থিক জরিমানার বিধান আছে তা অনেকেরই অজানা।আমি লেখার এক্কেবারে শেষাংশে ২২৮(এ) ধারাটি নিয়েও আলোচনা রাখছি।
দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো আইনজীবিদের পেশা, ভারতের সংবিধান এবং আইন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের ধারনা না থাকায় আইনজীবিদের সম্পর্কে অনর্থক এই ধরনের বিষোদগার বা উষ্মা প্রকাশ করেছেন তারা!!! একজন আইনজীবি হিসাবে সাধারন মানুষের মধ্যে যাতে আইনজীবিদের সম্পর্কে অকারনে কোন বিরূপ ধারনা না জন্মায় সেই কারনে আমার এই লেখা।অন্য পেশার কোন ব্যক্তিকেই অসম্মান করা বা তার শিক্ষা সম্পর্কে তির্যক মন্তব্য বা নেতিবাচক কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা আমার এই লেখাটার উদ্দেশ্য নয়।
বহু স্পর্শকাতর মামলাতে আইনজীবিরা অভিযুক্ত ব্যক্তির হয়ে আদালতে দাড়াতে অসম্মত হয়েছেন অতীতে এটা বহুবার দেখা গেছে এবং বার এসোসিয়েশন থেকেও অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। প্রসংগক্রমে বলে রাখি "হায়দরাবাদের ডঃসার্জেন খুন-ধর্ষন মামলায়" ইতিমধ্যে তেলেংগনার আইনজীবিরা জানিয়ে দিয়েছেন তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হয়ে মামলায় অংশ গ্রহন করবেন না। তো সব সময় যে কেবলমাত্র পুরুষ অভিযুক্ত বা ধর্ষকদের বিরুদ্ধেই আইনজীবিরা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন তাও নয় অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নারীর বিরুদ্ধেও জঘন্যতম অপরাধের প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিতভাবেই আইনজীবিরা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।যেমন কিছু দিন আগে বারাসাতের স্বামীহন্তা মনুয়ার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে বারাসাত আদালতের আইনজীবিরা অভিযুক্ত মনুয়া এবং তার দুষ্কর্ম্মের সহযোগীর পক্ষে আদালতে মামলায় অংশ গ্রহন করতে অস্বীকার করেন।এবার প্রশ্ন তা সত্ত্বেও এই ধরনের আসামীরা কিভাবে আইনজীবির সাহায্য পান!?।ভারতের আইন অনুযায়ী যে কোন অভিযুক্ত আদালতে আইনজীবি পাওয়ার অধিকারি। Magistrates এবং sessions judges যদি দেখেন অভিযুক্তের কোন আইনজীবি নেই তখন তিনি বাধ্য ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানাতে যে তার জন্যে বিনাব্যয়ে আইনজীবি নিয়োগের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা আইনানুযায়ী আছে।
যদি প্রাইভেট প্রাক্টিশনার কোন আইনজীবি কোন কারনে অভিযুক্তের পক্ষে আদালতে না দাড়াতে চান তবে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের ফ্রি লিগাল এইড সার্ভিসের প্যানেলভুক্ত কোন আইনজীবি section 304 of Criminal Procedure Code 1973 অনুসারে নিযুক্ত করবেন এবং ওই আইনজীবির পারিশ্রমিক ও মামলা পরিচালনার অন্যন্য খরচ সরকার বহন করবে।আদালতের কোন নির্দেশ অমান্য করতে পারেন না কোন আইনজীবি।কেন না রাষ্ট্রের দায়িত্ব ফৌজদারী মামলায় আইনজীবি যোগাড়ে অসমর্থ ব্যক্তিকে আইনজীবি নিয়োগ করে আইনি সাহায্য দেওয়া।যতক্ষন না আইনজীবি নিযুক্ত হবেন ততক্ষন সেই ক্রিমিনাল কেসে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত চার্জ গঠন করতে পারবেন না। কি আছে ধারাটিতে এবার দেখে নিন বন্ধুরাঃ-
Section No: 304 of CrPC
(Legal aid to accused at State expense in certain cases.)
(1) Where, in a trial before the Court of Session, the accused is not represented by a pleader, and where it appears to the Court that the accused has not sufficient means to engage a pleader, the Court shall assign a pleader for his defence at the expense of the State....................
সাম্প্রতিককালের যে ধর্ষনকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবিদের প্রতি বিষোদগার করে যারা পোস্ট করেছেন সোসাল মিডিয়ায় তাদের জ্ঞাতার্থে জানাই সমগ্র তেলেংগনা রাজ্যের আইনজীবিরা এই ধর্ষন মামলায় ( ভেটেনারী ডক্টর সার্জেন ধর্ষন এবং খুনের ঘটনা) অভিযুক্তদের পক্ষে অংশ নেবেন না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন। আরও একটা কথা বলি আমি নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতায় বহু ক্ষেত্রেই দেখছি তদন্তকারী পুলিস অফিসার অসাধারন দক্ষতার সাথে তদন্ত করেছেন, পাবলিক প্রসিকিউটারও যথেষ্ট তৎপরতা দেখিয়েছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে গেছে স্বাক্ষীরা আদালতে সঠিক স্বাক্ষ্য দানে অস্বীকার করেছেন বলে। এক্ষেত্রে সাধারন মানুষের মধ্যে সহ নাগরিকদের প্রতি নাগরিক কর্তব্যজ্ঞানের বডই অভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।
এবার আসছি কোনো ফৌজদারী মামলায় নিজেকে ডিফেন্ড করার ব্যাপারে অভিযুক্তের আইনি সাহায্য পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে সংবিধানে এবং আইনে এবং মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রুলিংএ কি বলা আছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায়। নিচের এই অংশটুকু বিশেষ করে মুলত আইনের ছাত্র বন্ধুদের উদ্দেশ্যে লিখছি।
Indian Constitution এর preambleএ ভারতের সকল নাগরিকদের আর্থ, সামাজিক, রাজনৈতিক ন্যয় বিচার প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে।
Article 38(1)of Constitution
বলা আছেঃ-
"The State shall strive to promote the welfare of the people by securing and protecting as effectively as it may a social order in which justice, social, economic and political, shall inform all the institutions of the national life."
Article 21 of Constitution
বলা আছেঃ-
"No person shall be deprived of his life or personal liberty except according to procedure established by law."
সংবিধানের এই অনুচ্ছেদগুলি বাস্তবায়নের জন্যে রাষ্ট্র কিছু ওয়েল ফেয়ার স্কিম নিয়েছে।তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ "ফ্রি লিগাল এইড সার্ভিস" তবে এই " ফ্রি লিগাল এইড সার্ভিস" মুলত আর্থিক দুর্বল ব্যক্তিদের জন্যে হয়ে থাকলেও পরবর্তিকালে কোন ক্রিমিনাল কেসে যে কোন কারনেই হোক আইনজীবি যোগাড়ে অসমর্থ্য যে কোন অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই ফ্রি লিগাল এইড সার্ভিসের আওতায় আনা হয়।
" Hussainara khatoon vs. State of Bihar" মামলায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রুলিং গুরুত্বপূর্ণ অংশঃ-
"......that if any accused is not able to afford legal services then he has a right to free legal aid at the cost of the state."
১৯৮১ সালে Khatri II বনাম State of Bihar,[ (SCC; 1981 SCC (Cri) 228] মামলায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট রুলিং দিলেনঃ-
" The Constitutional duty to provide legal aid arises from the time the accused is produced before the Magistrate for the first time and continues whenever he is produced for remand."
সাধারন মানুষ শুনলে আরো অবাক হবেন, লিগাল এইড দিতে যদি ব্যর্থতা দেখা যায় ( অভিযুক্ত ব্যক্তি ফ্রি লিগাল এইড নিতে অস্বীকার না করলে) সেক্ষেত্রে পুরো ট্রায়ালটাই বাতিল হতে পারে, এমন কি সেন্টেন্স এবং কনভিকশানও সেট এসাইড হতে পারে।আইনের ছাত্র বন্ধুরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ১৯৮৬ সালের Suk Das Vs. Union Territory of Arunachal Pradesh মামলায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের জাজমেন্টটি দেখে নিতে পারেন।[Ref:(1986) 2 SCC 401; 1986 SCC (Cri) 166)]
শুধু মাত্র নিম্ন আদালতেই নয় অভিযুক্ত বা বিচারে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিও উচ্চ আদালতে আপিলের জন্যে ফ্রি লিগাল এইড পাবেন।আইনের ছাত্ররা Madav Hayavadanrao Hoskot Vs. State of Maharastra (1978)3 SCC 544 মামলায় মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের জাজমেন্টটা পড়ে নিতে পারেন।
এইবার জেনে নেই ফ্রি লিগাল এইড স্কিমে ফৌজদারী মামলায় কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্যে বিচার চলাকালীন নিম্ন আদালতে অথবা দোষী সাবস্ত ব্যক্তির জন্যে উচ্চ আদালতে আপীল মামলায় সরকার কি ধরনের আর্থিক ব্যয় বহন করে থাকেঃ-
1.Payment of court and other process fee;
2. Charges for preparing, drafting and filing of any legal proceedings;
3.Charges of a legal practitioner or legal advisor;
4. Costs of obtaining decrees, judgments, orders or any other documents in a legal proceeding;
5.Costs of paper work, including printing, translation etc.
তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ফ্রি লিগাল এইড সার্ভিস পাবেন না অভিযুক্ত ব্যক্তি এটাও জেনে রাখুন বন্ধুরা।
1. Cases in respect of defamation, malicious prosecution, contempt of court, perjury etc.
2. Proceedings relating to election;
3.Cases where the fine imposed is not more than Rs.50/-;
4.Economic offences and offences against social laws;
5.Cases where the person seeking legal aid is not directly concerned with the proceedings and whose interests will not be affected.
★★★
এবারে আসছি ধর্ষিতার বা ধর্ষিতা এবং নিহত মহিলার ছবি, নাম, পরিচয় প্রচার করা যে আইনত দন্ডনীয় অপরাধ সে প্রসংগে।
২০১৮ সালে মহামান্য সুপ্রীমকোর্ট ( Division Bench headed by Justice Madan B Lokur) জানিয়ে দিয়েছিলেন কোন রেপ বা সেক্সুয়াল এসাল্টেড ভিক্টিমের পরিচয় যেন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ না করা হয়। এই জাজমেন্টে উল্লেখ্য বাক্যটা ছিল "even in a remote manner"
IPC এর 228(a) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে এটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং তার জন্যে দুবছরের কারাবাস এবং আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা আছে।
এবার দেখে নিন বন্ধুরা IPC 228(a)ধারায় কি আছে এ সম্পর্কেঃ-
( Disclosure of identity of the victim of certain offences etc.)
(1) Whoever prints or publishes the name or any matter which may make known the identity of any person against whom an offence under section 376, section 376A, section 376B, section 376C or section 376D is alleged or found to have been committed (hereafter in this section referred to as the victim) shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years and shall also be liable to fine.
(2) Nothing in sub-section (1) extends to any printing or publication of the name or any matter which may make known the identity of the victim if such printing or publication is-
(a) by or under the order in writing of the officer-in-charge of the police station or the police officer making the investigation into such offence acting in good faith for the purposes of such investigation; or
(b) by, or with the authorisation in writing of, the victim; or
(c) where the victim is dead or minor or of unsound mind, by, or with the authorisation in writing of, the next of kin of the victim:
Provided that no such authorisation shall be given by the next of kin to anybody other than the chairman or the secretary, by whatever name called, of any recognised welfare institution or organisation.
(3) Whoever prints or publishes any matter in relation to any proceeding before a court with respect to an offence referred to in sub-section (1) without the previous permission of such court shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years and shall also be liable to fine,
Explanation.-The printing or publication of the judgment of any High Court or the Supreme Court does not amount to an offence within the meaning of this section.]
★★★ Written by
G.C Mandal, Advocate
High Court at Calcutta
From Tollygunj
Ph 9830856567