Session & Judge Court, Gazipur, Bangladesh

Session & Judge Court, Gazipur, Bangladesh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Session & Judge Court, Gazipur, Bangladesh, Pub, Keep west side, Mawna Bazar Road, Sreepur, Gazipur.

 # # #তিন মাসে বেদখল জমি উদ্ধারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।“ # # #বেদখল জমি উদ্ধার হবে তিন মাসে: কার্যকর হচ্ছে ভূমি আইন ২০২৩...
30/01/2026

# # #তিন মাসে বেদখল জমি উদ্ধারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
“ # # #বেদখল জমি উদ্ধার হবে তিন মাসে: কার্যকর হচ্ছে ভূমি আইন ২০২৩”
# # #উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বেদখল (দখলকৃত) জমি উদ্ধার করতে বাংলাদেশে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়—
১। # # #জমির মালিকানা কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
প্রথমেই প্রমাণ করতে হবে যে জমিটি আপনার/রাষ্ট্রের—
দলিল (সাফ কবলা/রেজিস্ট্রি দলিল)
খতিয়ান (CS/SA/RS/BS)
পরচা
নামজারি (Mutation) কপি
খাজনা/ভূমি উন্নয়ন কর রশিদ
নকশা (প্রয়োজনে)
# # #কাগজ যত শক্ত হবে, কাজ তত সহজ হবে।
২। # # #উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) কাছে লিখিত আবেদন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত দরখাস্ত দিতে হবে।
আবেদনে যা থাকবে:
আপনার পরিচয় ও ঠিকানা
জমির বিস্তারিত বিবরণ (মৌজা, দাগ, খতিয়ান, পরিমাণ)
কে/কারা বেদখল করেছে
কতদিন ধরে বেদখল
কীভাবে দখল হয়েছে
আইনগতভাবে জমি উদ্ধার করার আবেদন
# # #সব কাগজপত্রের ফটোকপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।
৩। # # #ভূমি অফিসে যাচাই ও তদন্ত
UNO সাধারণত বিষয়টি পাঠান—
সহকারী কমিশনার (ভূমি) / AC (Land)
কানুনগো / সার্ভেয়ার
তারা:
জমির রেকর্ড যাচাই করবে
সরেজমিন তদন্ত করবে
দখলের সত্যতা রিপোর্ট আকারে দাখিল করবে
৪। # # #ভ্রাম্যমাণ আদালত / প্রশাসনিক ব্যবস্থা
যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে জমিটি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, তাহলে—
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হতে পারে
দখলদারকে উচ্ছেদ করা হবে
প্রয়োজনে জরিমানা/শাস্তি দেওয়া হবে
জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে
# # #সরকারি (খাস) জমির ক্ষেত্রে প্রশাসন আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
৫। # # #পুলিশের সহায়তা (প্রয়োজনে)
উচ্ছেদকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে—
থানা পুলিশ
আনসার
সহায়তা দেওয়া হয়।
৬। # # #যদি জটিলতা থাকে
কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন জানাতে পারে
বিষয়টি দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত
তখন আপনাকে আদালতে মামলা (Declaration + Recovery of Possession) করতে হতে পারে
# # #গুরুত্বপূর্ণ টিপস
সবসময় লিখিতভাবে যোগাযোগ করুন
আবেদন গ্রহণের রিসিভ কপি রাখুন
নিয়মিত খোঁজ নিন (Follow-up)
প্রয়োজনে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

২৯/১১/২০২৫ ইং তারিখে অ্যাডভোকেট তালিকাভূক্তি MCQ পরীক্ষা
19/08/2025

২৯/১১/২০২৫ ইং তারিখে অ্যাডভোকেট তালিকাভূক্তি MCQ পরীক্ষা

16/08/2025

" # # #ফৌজদারি কার্যবিধির সংস্কার: গ্রেপ্তার থেকে বিচার" —বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়।

# # #বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো ধারা, অপর্যাপ্ত জরিমানার সীমা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় সমালোচিত ছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় সংশোধনী সেই দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে, এনে দিয়েছে ২১ শতকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক রূপ।

১. ধারা ৩২: জরিমানা প্রদানের ক্ষমতা
- পূর্ব বিধান:
- ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট: সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা
- ২য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট: সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা
- ৩য় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট: সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৩ সালের ১৭নং আইনের মাধ্যমে সীমা বৃদ্ধি।
- বর্তমান বিধান:
- ১ম শ্রেণি: ৫ লাখ টাকা (৫০ গুণ বৃদ্ধি)
- ২য় শ্রেণি: ৩ লাখ টাকা (৬০ গুণ বৃদ্ধি)
- ৩য় শ্রেণি: ২ লাখ টাকা (১০০ গুণ বৃদ্ধি)

২. ধারা ৪৬ক-৪৬ঙ: গ্রেপ্তারে নাগরিক সুরক্ষা
- পূর্ব বিধান:
- গ্রেপ্তার প্রোটোকলে কোনো স্ট্যান্ডার্ডাইজড বিধান।
- পরিচয়প্রমাণ, পরিবারকে জানানো বা মেডিকেল চেকআপ বাধ্যতামূলক ছিল না।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৪ সালে ৫টি নতুন উপ-ধারা (৪৬ক-৪৬ঙ) সংযোজিত হয়।
- বর্তমান বিধান:
- ৪৬ক: গ্রেপ্তারকারীর পরিচয় প্রকাশ, মেমোরেন্ডামে স্থানীয় ব্যক্তির স্বাক্ষর।
- ৪৬খ: ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে সময়/স্থান জানানো বাধ্যতামূলক।
- ৪৬গ: জেলাভিত্তিক ডিজিটাল গ্রেপ্তার রেজিস্টার বাধ্যতামূলক।
- ৪৬ঘ: হেফাজতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব।
- ৪৬ঙ: আঘাতপ্রাপ্ত হলে সরকারি ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা।

৩. ধারা ৫৪: বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার
- পূর্ব বিধান:
- আমলযোগ্য অপরাধে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ব্যাপক ক্ষমতা।
- গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে দাখিলের বাধ্যবাধকতা।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৪ সালে ধারা ৫৪ক যোগ ও ৫৪-এ উপধারা সংযোজন।
- বর্তমান বিধান:
- ৭ বছরের কম সাজার অপরাধে গ্রেপ্তারের জন্য ৩টি শর্ত:
১. পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি
২. প্রমাণ নষ্টের সম্ভাবনা
৩. নতুন অপরাধের আশঙ্কা
- ৫৪ক: গ্রেপ্তারের কারণ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে দিতে হবে।

৪. ধারা ১৬৭: পুলিশ হেফাজত
- পূর্ব বিধান:
- পুলিশ হেফাজতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন রাখার সুযোগ।
- হেফাজতকালীন চিকিৎসা বা নির্যাতন তদন্তের বিধান ।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৫ সালে উপধারা ২ক সংযোজিত।
- বর্তমান বিধান:
- পুলিশ হেফাজতের আগে ও পরে মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
- নির্যাতনের প্রমাণ পেলে ম্যাজিস্ট্রেট:
- তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করবেন
- দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবেন।

৫. ধারা ১৭৩খ: তদন্তের সময়সীমা
- পূর্ব বিধান:
- তদন্ত শেষের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৪ সালে সম্পূর্ণ নতুন ধারা সংযোজিত।
- বর্তমান বিধান:
- অপরাধের তথ্য পেয়ে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
- সময় বাড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন আবশ্যক।
- ব্যর্থতায় শাস্তি:
- তদন্তকারী পরিবর্তন
- বেতন কাটা
- চাকরিচ্যুতির সুপারিশ

৬. ধারা ২৬০: সংক্ষিপ্ত বিচার (স্যামারি ট্রায়াল)
- পূর্ব বিধান:
- শুধু ১০,০০০ টাকার চুরি/আত্মসাতের মামলায় প্রযোজ্য।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৫ সালে ধারা ২৬৪ক যুক্ত ও ২৬০ সংশোধিত।
- বর্তমান বিধান:
- ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা সংক্ষিপ্ত বিচারযোগ্য।
- ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারবেন।
- একই দিনে চার্জ গঠন থেকে রায় পর্যন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন।

৭. ধারা ৩৪৫: আপস নিষ্পত্তি
- পূর্ব বিধান:
- ধারা ১৪৩ (বেআইনি সমাবেশ) আপস অযোগ্য ছিল।
- আপস চুক্তি বাস্তবায়নে আদালতের সরাসরি ক্ষমতা ।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৪ সালে উপধারা (৫) যোগ।
- বর্তমান বিধান:
- ধারা ১৪৩ এখন আপসযোগ্য।
- আদালত সরাসরি আপসে মধ্যস্থতা করতে পারবে।
- চুক্তি লঙ্ঘন করলে:
- আদালত জরিমানা আদায়ের আদেশ দিতে পারবে
- সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়াই রায় দিতে পারবে

৮. ধারা ৪৯৮: জামিনের শর্ত
- পূর্ব বিধান:
- শুধু আর্থিক জামিনদার ও স্থানীয় গ্যারান্টর।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৫ সালে উপধারা (১ক) সংযোজিত।
- বর্তমান বিধান:
- জামিনে নতুন শর্ত আরোপের ক্ষমতা:
- ডোপ টেস্ট
- পাসপোর্ট জমা
- মাসে ২৪ ঘণ্টা সমাজসেবা
- নির্দিষ্ট এলাকা ত্যাগ না করা

৯. ধারা ৩৩৯খ: অনুপস্থিতিতে বিচার
- পূর্ব বিধান:
- ক্রোকি, হুলিয়া পরোয়ানা ও ২টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি বাধ্যতামূলক।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৪ সালে ধারা সম্পূর্ণ সংশোধিত।
- বর্তমান বিধান:
- ক্রোকি/হুলিয়া প্রক্রিয়া বিলুপ্ত।
- শুধুমাত্র ১টি বাংলা পত্রিকা ও আদালতের ওয়েবসাইটে নোটিশ যথেষ্ট।
- নোটিশ প্রকাশের ২১ দিন পর বিচার শুরু।

১০. ধারা ২৫০: মিথ্যা মামলার শাস্তি
- পূর্ব বিধান:
- শাস্তি প্রদান বিচারকের ইচ্ছাধীন ছিল।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৩ সালে ধারাটি সংশোধিত।
- বর্তমান বিধান:
- শাস্তি বাধ্যতামূলক।
- জরিমানার পরিমাণ:
- সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা (পূর্বে ১০০ টাকা)
- সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা (পূর্বে ৩,০০০ টাকা)

১১. ধারা ৩২৫ (দণ্ডবিধি): জামিন অযোগ্যতা
- পূর্ব বিধান:
- গুরুতর জখমের মামলায় জামিন পাওয়া সহজ ছিল।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৪ সালে ফৌজদারি কার্যবিধির তফসিল সংশোধন।
- বর্তমান বিধান:
- ধারা ৩২৫ এখন সম্পূর্ণ জামিন অযোগ্য।
- অস্ত্র ব্যবহার প্রমাণ না হলেও জামিন নিষিদ্ধ।

১২. ধারা ৫৪৪: সাক্ষী সুরক্ষা
- পূর্ব বিধান:
- সাক্ষী ভাতা প্রদানে জটিল প্রক্রিয়া।
- সাধারণ ফৌজদারি মামলায় সাক্ষী সুরক্ষার বিধান।
- সংশোধনীর বিবরণ:
- ২০২৫ সালে উপধারা (৩) ও (৪) যোগ।
- বর্তমান বিধান:
- সাক্ষী ভাতা সরকারি আদেশে দ্রুত নিষ্পত্তি।
- আদালত যেকোনো মামলায় সাক্ষীর জন্য নিম্নলিখিত আদেশ দিতে পারবে:
- পুলিশ প্রটেকশন
- পরিচয় গোপন রাখা
- ভিডিও কনফারেন্সে সাক্ষ্য

পরিশেষে "এই সংস্কার ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে ২১ শতকের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। গ্রেপ্তার-পরবর্তী মৃত্যু ৭০% কমেছে, তদন্তে গড় সময় ১২০ দিন থেকে ৪৫ দিনে নেমেছে। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ জরুরি।"

সংগৃহীত।

14/08/2025

# #দেওয়ানি কার্যবিধিতে যুগান্তকারী সংস্কার

➡️ বাদী-বিবাদীকে দিনের পর দিন আদালতে দাঁড়িয়ে মৌখিক জবানবন্দি দিতে হবে না। লিখিত জবানবন্দি জমা দিতে হবে হবে এফিডেভিট আকারে।

➡️ দেওয়ানি আদালত রায় ও আদেশ কার্যকর করতে পুলিশসহ যেকোনো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিতে পারবে

➡️ দেওয়ানি মামলায় জেল হলে তার খরচ পক্ষ দেবে না, সরকার বহন করবে

➡️ রায় পাওয়ার পর পৃথক জারি মামলা করতে হবে না, মূল মামলার অধীনেই জারি কার্যক্রম চলবে

➡️ মামলা প্রলম্বনে সময়ের আবেদন করার সুযোগ কমেছে

➡️ হয়রানিমূলক মামলায় ক্ষতিপূরণ বেড়েছে

13/08/2025

আগামী ২৫শে অক্টোবর, ২০২৫, হাইকোর্ট পারমিশন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

11/08/2025

# # #ফৌজদারি কার্যবিধির যুগান্তকারী সংস্কার (বিস্তারিত)

# # #ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এই সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় যুগান্তকারী কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

# # #ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি
বর্তমানে গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা তিন লাখ টাকা, অথচ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার এখতিয়ার মাত্র দশ হাজার টাকা। এবারের সংশোধনীতে ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা করার এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা দশ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে (ধারা ৩২)।

# # #গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির রক্ষাকবচ
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণসমূহকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ৪৬এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করার সময় গ্রেপ্তারকারীর নেমপ্লেট থাকতে হবে, নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। যেক্ষেত্রে আসামিকে তার বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর অবিলম্বে (যা কোনোভাবেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না) আসামির পরিবার বা নিকটজনকে জানাতে হবে। গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা আসামি অসুস্থ হলে অবশ্যই তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঘাত বা অসুস্থতা সম্পর্কে চিকিৎসকের প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে। আসামি যদি আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

# # #মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় এবারের সংশোধনীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধান হলো ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ এর প্রবর্তন (ধারা ৪৬এ)। আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই বিধান এবং এ-সম্পর্কিত একটি ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেই পুলিশকে এখন থেকে ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির আইনি সুরক্ষাসমূহের একটি চেকলিস্ট রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে উপস্থাপনের সময় এই ফর্মটিও দাখিল করতে হবে। রক্ষাকবচ সম্পর্কিত বিধানসমূহ কতটা প্রতিপালিত হয়েছে, এই ফর্ম দেখে ম্যাজিস্ট্রেট সেটি তদারকি করতে পারবেন। উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশের কিছু জেলায় বর্তমানে এই ফর্ম সফলভাবে চালু আছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সন্নিবেশ করার ফলে এখন থেকে সারা দেশে এই বিধান বাস্তবায়িত হবে।

# # #গ্রেপ্তারের তথ্য সরবরাহে বিশেষ বিধান
গ্রেপ্তারকৃতের তথ্য পেতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ভয়ানক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে কেন বা কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে—এ-সম্পর্কিত তথ্যপ্রাপ্তি খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নতুন বিধান যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। আবার ৪৬বি এবং ৪৬সি ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রেপ্তারের তথ্য গ্রেপ্তারকারীর অফিসের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যে থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই থানার সাধারণ ডায়েরিতেও এন্ট্রি করতে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পক্ষে কেউ থানায় যোগাযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি থানা, জেলা ও মহানগর পুলিশ অফিসে প্রতিদিন গ্রেপ্তারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

# # #গ্রেপ্তারকৃতের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে অনেক সময় টাকা-পয়সা, অলঙ্কার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী থাকে। এসব দ্রব্য যদি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে মামলার জব্দতালিকায় সেগুলো উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় এসব মূল্যবান বস্তুর সঙ্গে অপরাধের সংযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে এসব সামগ্রী নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এখন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে এমন মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে তার জন্য পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং সম্ভব হলে সেই তালিকায় একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। ওই তালিকার একটি কপি গ্রেপ্তারকৃতের নিকটজনকে দিতে হবে। (ধারা ৫১)।

# # #৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারে অধিকতর সতর্কতা
অনেকের ধারণা, ৫৪ ধারার গ্রেপ্তার মানে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই খামখেয়ালী গ্রেপ্তার। মনে করা হয়, মামলাসূত্রে যেসব গ্রেপ্তার, সেগুলো ৫৪ ধারার অধীন নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, পুলিশ যেসব ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে, ৫৪ ধারায় তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। থানায় দায়েরকৃত এজাহার কিংবা আদালত দায়েরকৃত নালিশি মামলা- তদন্ত যদি পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত হয়, আর পুলিশ যদি আমলযোগ্য (কগনিজেবল) অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়, সেক্ষেত্রে আসামিকে ওই মামলাসূত্রে পুলিশের গ্রেপ্তার করার যে ক্ষমতা, সেটিও ৫৪ ধারার বিষয়বস্তু।

# # #এবারের সংশোধনীতে আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত পুলিশের গ্রেপ্তারের এই ক্ষমতা আরও সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দেখাতে হবে, পুলিশের সামনে ওই ব্যক্তি অপরাধটি ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত কোনো এজাহার বা নালিশি মামলা পুলিশের কাছে তদন্তাধীন থাকলে এবং পুলিশ ওই মামলা সংক্রান্তে কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে পুলিশকে দেখাতে হবে, অপরাধটি ওই ব্যক্তি করেছেন মর্মে পুলিশের সন্দেহ করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। যেখানে আমলযোগ্য অপরাধটির সাজা সাত বছর বা তার কম, সেক্ষেত্রে পুলিশকে আরও দেখাতে হবে যে, আসামি অধিকতর অপরাধ জড়ানো থেকে প্রতিহত করতে, তার পালিয়ে যাওয়ার ঠেকাতে বা সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করা থেকে তাকে বিরত রাখতে এই গ্রেপ্তার জরুরি।

# # #আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে গ্রেপ্তার করা কিংবা না করা উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে নিবারণমূলক আটক করার প্রয়োজনে ৫৪ ধারার বিধান প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

# # #গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানের প্রতিপালনে আদালতের দায়িত্ব

গ্রেপ্তার সম্পর্কিত যেসব বিধান আইনে আছে, সেগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, তা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতকে। ৬৭এ ধারায় বলা হয়েছে, যে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাজির করা হবে, তার দায়িত্ব হবে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানাবলি প্রতিপালন হয়েছে কিনা দেখা। কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আদালত অবহেলাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারবে।

# # #পুলিশ রিমান্ড ও শ্যোন অ্যারেস্ট

একজন আসামিকে কতদিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে রাখা যায়, সে ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধির বিদ্যমান বিধান অস্পষ্ট। এবার ১৬৭ ধারায় সংশোধন করে বলা হয়েছে, এক মামলায় কোনোভাবেই ১৫ দিনের বেশি পুলিশ রিমান্ড নয়। একই সঙ্গে রিমান্ডে প্রেরণের আগে-পরেও আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতন করলে এবং আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

# # #আবার ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সম্পর্কিত ১৬৭এ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে, এক মামলার আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে চাইলে পুলিশকে আদালতে আসামি ও পুলিশ ডায়েরি উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

# # #তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ

ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রথমবারের মতো তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭৩বি ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো মামলার তদন্ত সাধারণভাবে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হলে বিস্তারিত কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে তদন্তকারী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। তার প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সময়সীমা বর্ধিত করতে পারবেন। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হলে তদন্তকারী পুনরায় তার কারণ ব্যাখা করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবেন। তদন্তকারীর গাফলতি প্রতীয়মান হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তদন্তকারী পরিবর্তন বা তদন্তকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে।

# # #সংক্ষিপ্ত বিচারে বিশেষ বিধান
সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে চুরি, আত্মসাৎ প্রভৃতি মামলার বিষয়বস্তুর মূল্যমান অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা হলে তার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এই মূল্যমান বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিচার সংক্রান্ত বিশেষ বিধান ২৬৪এ যুক্ত করে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে একই বৈঠকে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে এবং যেকোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা যাবে।

# # #অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা বাধ্যতামূলক নয়
অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা কেবল দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টিকারী এক প্রক্রিয়ার নাম। ৩৩৯বি ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা জারির কোনো আবশ্যকতা আর থাকবে না। ফলে পলাতক আসামির মামলা দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে।

# # #একইসঙ্গে পলাতক আসামিকে আদালেত উপস্থিত হওয়ার আদেশ দুটি পত্রিকার পরিবর্তে একটি বাংলা পত্রিকায় এবং পাশাপাশি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।

# # #আপসযোগ্য মামলা
বেআইনি সমাবেশ সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা এতদিন আপসঅযোগ্য ছিল। এবার এই অপরাধকে আপসযোগ্য করা হয়েছে। এতদিন অনেক মামলা আপসে নিষ্পত্তি করার পথে এই ধারাটির আপসঅযোগ্যতা বাধা ছিল।

# # #আপসের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সংশোধনী হলো— এখন থেকে আদালত নিজে আপস কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারবে এবং পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আপসের জন্য মামলা প্রেরণ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, আপসের ভিত্তিতে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে সেই চুক্তি নথিভুক্ত করে এর শর্ত বাস্তবায়নে আদালত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। অনেক মামলায় দেখা যায়, আপস হলেও আপসের চুক্তি লিপিবদ্ধ করা হয় না এবং আসামি চুক্তি মোতাবেক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধের পর টাকা প্রদান বন্ধ করে দেন। এরকম ক্ষেত্রে এতদিন আপস-প্রক্রিয়া স্থগিত করে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার রায় দিতে হতো। এখন থেকে আপস-চুক্তি থাকলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়েও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারবে।

# # #জামিনে শর্তযুক্ত করা
বর্তমানে প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামির ওপর নানা শর্ত আরোপ করার সুযোগ রয়েছে। এভাবেই সারা দেশে হাজার হাজার আসামি সংশোধন হচ্ছে। তবে প্রবেশনের সীমাবদ্ধতা হলো এটি কেবল মামলার শেষে প্রয়োগযোগ্য। মামলা চলাকালে আসামির সদাচরণ সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে আদালত অঙ্গনে দ্বিধা ছিল। অনেক মনে করেন, শর্ত আরোপ করে জামিন প্রদানের সুযোগ নেই। তবে এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন রেফারেন্স পাঠ করলে দেখা যায়, কেবল এমন কঠোর শর্ত দেওয়া যাবে না, যা জামিন না দেওয়ারই নামান্তর। যেমন আসামির সামর্থ্যবহির্ভুত বিরাট অঙ্কের টাকা জমাদান সাপেক্ষে জামিন দেয়া হলে সেই শর্ত সঠিক হবে না। এরকম শর্তের বাইরে আসামির সদাচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করার সুযোগ উচ্চ আদালতের বহু সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে। এবারের সংশোধনীতে ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, জামিন প্রদানের সময় আদালত যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে। ফলে মামলা চলাকালে আসামিদের ডোপটেস্ট বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের শর্ত আরোপ করতে পারবে আদালত। যা সংশোধনমূলক বিচার প্রক্রিয়ার জন্য দারুণ সহায়ক হবে।

# # #ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে আসামির অব্যাহতি
ফৌজদারি মামলায় ভোগান্তির জন্য আসামি চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই এই হয়রানি শুরু হয় মূলত তারিখে তারিখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরও নিস্তার নেই এই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে। হাজিরা দিতে একটু ব্যত্যয় ঘটলেই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। এবারের সংশোধনীতে তদন্ত চলাকালে আসামির হাজিরা শিথিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪০এ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে তদন্ত রিপোর্ট শুনানি পর্যন্ত জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। এ-সময় আসামি তার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। পূর্বে কোনো কোনো আদালত ২০৫ ধারার অধীনে এ ধরনের প্রতিকার প্রদান করতেন, যদিও আইনত ওই ধারা কেবল মামলা আমলে গ্রহণের পর প্রযোজ্য, তার আগে প্রযোজ্য নয়। নতুন আইনে স্পষ্ট বিধান যুক্ত হওয়ায় সারা দেশের লাখ লাখ জামিনপ্রাপ্ত আসামি ব্যক্তিগত হাজিরার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে কোনো আসামি উপস্থিত না থাকলেও এখন থেকে আসামির আইনজীবী আদালতের অনুমতিক্রমে সাক্ষীদের জেরা করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই সুযোগ নিতে হলে অন্তত একজন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকতে হতো।

# # #সাক্ষীর খরচ ও সুরক্ষা

আদালতে আগত সাক্ষীদের অনেকেই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। সাক্ষ্যদানের পর তারা যাতায়াত ও খোরাকি ভাতা প্রত্যাশা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীর খরচ প্রদানের জন্য বিধান থাকলেও সেটি কার্যকর করার জন্য পৃথক বিধি প্রণয়ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিষয়টি সহজ করার উদ্দেশ্যে এবার ‘বিধি’-এর পরিবর্তে ‘সরকারি আদেশ’ দ্বারা প্রয়োজনীয় বিধান করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

# # #অন্যদিকে সাক্ষী সুরক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ আইনে বিধান থাকলেও ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোনো বিধান ছিল না। এবারের সংশোধনীতে সাক্ষী ও ভিকটিমদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সব ধরনের ফৌজদারি মামলায় সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ সুগম হয়েছে।

# # #দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় জামিনঅযোগ্য
দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারা এতদিন পর্যন্ত জামিনযোগ্য ছিল। ফলে হাত-পা ভেঙে যাওয়া, চোখ-কানের মতো মূল্যবান অঙ্গহানির ক্ষেত্রেও আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেত। আসামির জামিনকে কঠিন করার জন্য মামলায় ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মিথ্যা বর্ণনা যুক্ত করা হতো, যাতে মামলাটি দণ্ডবিধির জামিনঅযোগ্য ৩২৬ ধারার আওতায় দেখানো যায়। এতে করে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে জামিন কঠিন হলেও চূড়ান্ত সাক্ষ্যপ্রমাণে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের প্রমাণ না মিললে আসামি সুবিধা পেত। সবদিক বিবেচনায় এবারের সংশোধনীতে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারাকে জামিনঅযোগ্য করা হয়েছে। ফলে গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে অস্ত্রের প্রয়োগ ছিল কি না, জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর সেটি ধর্তব্য হবে না।

# # #মিথ্যা মামলার সাজা বৃদ্ধি
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বে ঐচ্ছিক ছিল (২৫০ ধারা)। বর্তমানে এটিকে ম্যাজিস্ট্রেটের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলার সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

# # #বিবিধ
ডিজিটাল মাধ্যমে সমন জারি এবং অনলাইনে বেল বন্ড দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেত্রাঘাতের মতো অবমাননাকর সাজা সম্পর্কিত সকল বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। পূর্বে আপিলঅযোগ্য অর্থদণ্ডের পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ টাকা, এটিকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে।

-- ©লেখকের নাম: জনাব মারুফ আল্লাম,
সিনিয়র সহকারী সচিব,
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

Call now to connect with business.

06/10/2023

শিক্ষায় জাতির মেরুদণ্ড;
বিশ্বশিক্ষক দিবস-২০২৩,
সকল শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন 💞

Bangladesh Bar Council MCQ Results 2022
17/06/2022

Bangladesh Bar Council MCQ Results 2022

মৌলভীবাজার জেলা দায়রা ও জজ কোর্ট
16/06/2022

মৌলভীবাজার জেলা দায়রা ও জজ কোর্ট

Address

Keep West Side, Mawna Bazar Road, Sreepur
Gazipur

Telephone

+8801726385859

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Session & Judge Court, Gazipur, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Session & Judge Court, Gazipur, Bangladesh:

Share

Category