27/11/2024
“নবাবসাহেব”
ষষ্ঠ ভাগ
Sid Ratul
---------------------------
রাফিন সৃজনকে নিয়ে পৌঁছালো। বাসার সামনে আসতেই নেমে পরলো সৃজন৷ বাইরে থেকেই বুঝতে পারলো বাসায় কিছু একটা চলছে৷ মনে হচ্ছে অনেক লোক আছে বাসায়৷ সৃজন রাফিনের দিকে তাকালো। রাফিনও সৃজনের দিকে তাকালো। তারা দুজনেই বুঝতে পারলো কি হচ্ছে বাড়িতে।
“শুনুন, আমি কিন্তু কিচ্ছু জানি না এসব বিয়ের ব্যাপারে,, আমাকে খবরদার এসবে জড়াবেন না৷ ”, বললো সৃজন৷
“আচ্ছা, আগে ভিতরে গিয়ে তো দেখি কি অবস্থা! ”, বললো রাফিন।
তারা ভিতরে গেলো। বাসায় অনেক লোক। শায়লা বেগম, শাওন মিথিলা ওরা ভিতরের রুমে,,,, খুব চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ আসছে ওদিক থেকে। আশেপাশের কয়েকবাড়ির লোকজনও এসেছে৷ আরও অনেকে এসেছে৷ এতোকিছুর মধ্যে কেউ আর সৃজনের দিকে নজর দিলো না। সৃজন চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেলো৷ পিছন পিছন আরও একজন আসলো।
সৃজন পিছন দিকে না তাকিয়েই বললো, “আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি। আমার রুমে কেন এসেছেন???? বেরিয়ে যান এক্ষুনি!!!! ”
“Excuse me,,,, sorry!!!! ”
সৃজন পিছন ফিরে তাকালো৷ বললো, “I'm sorry ভাইয়া, ভেবেছিলাম ওই মাস্তানটা,,,,, আপনাকে তো চিনলাম না,,,!? ”
“আমি ইয়ামিন,,, শাওনের ফ্রেন্ড। তুমি মনে হয় ওর কাজিন, তাই না? ”
“হুমমমম৷ সরি, আসলে বুঝতে পারি নি। ”, বললো সৃজন৷
“মাস্তান কাকে বলছিলে???? মনে হচ্ছে রাফিন ভেবে বলেছিলে, তাই না? ”
“আসলে,, মানে??? ”
“বুঝতে পারছি। আসলে রাফিন একটু অভদ্র টাইপের ছেলে। সব জায়গায় গুন্ডামী করে বেড়ায়। আজ তো ওর সাথেই ঘুরতে বেরিয়েছিলে, তাই না,, শাওনের কাছে শুনলাম! ”
“হুমমম। ”
“তবে আমি বলবো কি,,, ওর সাথে বেশী মিশো না,, ও একটু বখাটে টাইপের ছেলে,, ভালো না। ”, বললো ইয়ামিন৷
ঠিক এই মুহূর্তে রাফিন সৃজনের রুমে আসছিলো,, কিন্তু সৃজনের কথা শুনে থেমে গেলো৷
“আমি জানি ওই ছেলেটা ভালো না, মাস্তান টাইপের। হাতে টেটু করা, গলায় চেইন পরা,, ছেলেরা গুন্ডা টাইপের হয়৷ আমার এরকম ছেলেদের একদমই পছন্দ না। বিরক্ত লাগে। ”, বললো সৃজন।
“তোমার শরীরের এই হাল কেন? এক্সিডেন্ট হয়েছিলো কি?? ”, বললো রাইয়ান।
“নাহ,, মানে,, পাহাড় থেকে পরে গিয়েছিলাম। ”
“ঔষুধ লাগাতে হবে তো৷ ”
“আমি লাগিয়ে নেবো। ”
“নিজে নিজে পারবে না। আমি লাগিয়ে দিচ্ছি। ফার্স্টএইডের বক্সটা কোথায়? ”, রাইয়ান সৃজনের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো।
রাফিন আর দাঁড়ালো না দরজার বাইরে। চলে গেলো৷
রাইয়ান সৃজনের কপালে, হাতে ঔষধ লাগিয়ে দিলো। প্রয়োজনের থেকে যেন একটু বেশীই ছুঁচ্ছিলো সে সৃজনকে। সৃজনের কেমন একটা লাগতে লাগলো।
“তোমার বুকেও লেগেছে নাকি? বোতামগুলো ছিঁড়ে গেছে। দেখি, শার্টটা খোলো,,, ”
চমকে উঠে দূরে সরে গেলো সৃজন৷ ইতস্তত করে বললো, “ঠিক আছে,,, আমার বুকে কোথাও লাগে নি। ঔষধ লাগাতে হবে না৷ আপনি এখন যান। আমি একটু ফ্রেশ হবো। ” বলেই বাথরুমে চলে গেলো সৃজন।
***
রাফিন শাওনের রুমে বসে আছে৷ শাওন এখনো শায়লা বেগমের রুমে। সৃজন ফার্স্টএইডের বক্সটা শাওনের রুমে রাখতে গিয়ে দেখলো রাফিন সেই ঘরে বসে আছে৷ সে তাকালো না সেই দিকে। ফার্স্টএইডের বক্সটা রেখে চলে আসার জন্য পা বাড়াতেই রাফিনের গলা শুনতে পেলো।
“ একটা কথা বলার ছিলো,,,,,, ”, বললো রাফিন৷
“আমার শোনার কোনো ইচ্ছে নেই। ” বলেই চলে যেতে চাইলে রাফিন সৃজনের হাত টেনে ধরলো৷ সৃজন রাফিনের পেটে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই অস্ফুটস্বরে চিৎকার করে উঠলো রাফিন৷
“আহহহহ!! ”
“কি হয়েছে??? ”, বললো সৃজন।
“কিছু না। ”,বললো রাফিন৷
সৃজনের মনে পরে গেলো বাইক থেকে পরে যাওয়ার আগের কথা, যখন রাফিন খুব জোরে বাইক চালাচ্ছিলো,, তখন রাফিনকে থামাতে সে রাফিনের পেটে অনেক জোরে জোরে আছড়েছে,, খামচেছে,, শেষে তো তার হাতের শক্ত ধাতবের ঘরিটা দিয়ে খুব জোরে মেরেও ছিলো রাফিনের বুকে,, তাই তো রাফিন ব্যাথায় হ্যান্ডেল থেকে হাত সরিয়ে নেয়,,, আর বাইকটা নিয়ন্ত্রণ হারায়।
“আপনি পেটে ব্যাথা পেয়েছেন? ”
“না,, কিছু হয় নি৷ ”
“মিথ্যে বলছেন। ”
“সত্যি কিছু হয় নি। ”
“আমি দেখবো। ”
“মানে...! ”
“আপনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন৷ ”, বলেই রাফিনের দিকে এগিয়ে গেলো সৃজন৷
রাফিনের শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে দিলো সৃজন।
★★★ চলবে ★★★