সমপ্রেম গোল্প ১৮+

সমপ্রেম গোল্প ১৮+ Apnader mon valo korbar jonno ami achi

27/11/2024

“নবাবসাহেব”
ষষ্ঠ ভাগ
Sid Ratul
---------------------------
রাফিন সৃজনকে নিয়ে পৌঁছালো। বাসার সামনে আসতেই নেমে পরলো সৃজন৷ বাইরে থেকেই বুঝতে পারলো বাসায় কিছু একটা চলছে৷ মনে হচ্ছে অনেক লোক আছে বাসায়৷ সৃজন রাফিনের দিকে তাকালো। রাফিনও সৃজনের দিকে তাকালো। তারা দুজনেই বুঝতে পারলো কি হচ্ছে বাড়িতে।

“শুনুন, আমি কিন্তু কিচ্ছু জানি না এসব বিয়ের ব্যাপারে,, আমাকে খবরদার এসবে জড়াবেন না৷ ”, বললো সৃজন৷

“আচ্ছা, আগে ভিতরে গিয়ে তো দেখি কি অবস্থা! ”, বললো রাফিন।

তারা ভিতরে গেলো। বাসায় অনেক লোক। শায়লা বেগম, শাওন মিথিলা ওরা ভিতরের রুমে,,,, খুব চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ আসছে ওদিক থেকে। আশেপাশের কয়েকবাড়ির লোকজনও এসেছে৷ আরও অনেকে এসেছে৷ এতোকিছুর মধ্যে কেউ আর সৃজনের দিকে নজর দিলো না। সৃজন চুপচাপ নিজের ঘরে চলে গেলো৷ পিছন পিছন আরও একজন আসলো।

সৃজন পিছন দিকে না তাকিয়েই বললো, “আপনার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি। আমার রুমে কেন এসেছেন???? বেরিয়ে যান এক্ষুনি!!!! ”

“Excuse me,,,, sorry!!!! ”

সৃজন পিছন ফিরে তাকালো৷ বললো, “I'm sorry ভাইয়া, ভেবেছিলাম ওই মাস্তানটা,,,,, আপনাকে তো চিনলাম না,,,!? ”

“আমি ইয়ামিন,,, শাওনের ফ্রেন্ড। তুমি মনে হয় ওর কাজিন, তাই না? ”

“হুমমমম৷ সরি, আসলে বুঝতে পারি নি। ”, বললো সৃজন৷

“মাস্তান কাকে বলছিলে???? মনে হচ্ছে রাফিন ভেবে বলেছিলে, তাই না? ”

“আসলে,, মানে??? ”

“বুঝতে পারছি। আসলে রাফিন একটু অভদ্র টাইপের ছেলে। সব জায়গায় গুন্ডামী করে বেড়ায়। আজ তো ওর সাথেই ঘুরতে বেরিয়েছিলে, তাই না,, শাওনের কাছে শুনলাম! ”

“হুমমম। ”

“তবে আমি বলবো কি,,, ওর সাথে বেশী মিশো না,, ও একটু বখাটে টাইপের ছেলে,, ভালো না। ”, বললো ইয়ামিন৷

ঠিক এই মুহূর্তে রাফিন সৃজনের রুমে আসছিলো,, কিন্তু সৃজনের কথা শুনে থেমে গেলো৷

“আমি জানি ওই ছেলেটা ভালো না, মাস্তান টাইপের। হাতে টেটু করা, গলায় চেইন পরা,, ছেলেরা গুন্ডা টাইপের হয়৷ আমার এরকম ছেলেদের একদমই পছন্দ না। বিরক্ত লাগে। ”, বললো সৃজন।

“তোমার শরীরের এই হাল কেন? এক্সিডেন্ট হয়েছিলো কি?? ”, বললো রাইয়ান।

“নাহ,, মানে,, পাহাড় থেকে পরে গিয়েছিলাম। ”

“ঔষুধ লাগাতে হবে তো৷ ”

“আমি লাগিয়ে নেবো। ”

“নিজে নিজে পারবে না। আমি লাগিয়ে দিচ্ছি। ফার্স্টএইডের বক্সটা কোথায়? ”, রাইয়ান সৃজনের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো।

রাফিন আর দাঁড়ালো না দরজার বাইরে। চলে গেলো৷

রাইয়ান সৃজনের কপালে, হাতে ঔষধ লাগিয়ে দিলো। প্রয়োজনের থেকে যেন একটু বেশীই ছুঁচ্ছিলো সে সৃজনকে। সৃজনের কেমন একটা লাগতে লাগলো।

“তোমার বুকেও লেগেছে নাকি? বোতামগুলো ছিঁড়ে গেছে। দেখি, শার্টটা খোলো,,, ”

চমকে উঠে দূরে সরে গেলো সৃজন৷ ইতস্তত করে বললো, “ঠিক আছে,,, আমার বুকে কোথাও লাগে নি। ঔষধ লাগাতে হবে না৷ আপনি এখন যান। আমি একটু ফ্রেশ হবো। ” বলেই বাথরুমে চলে গেলো সৃজন।

***

রাফিন শাওনের রুমে বসে আছে৷ শাওন এখনো শায়লা বেগমের রুমে। সৃজন ফার্স্টএইডের বক্সটা শাওনের রুমে রাখতে গিয়ে দেখলো রাফিন সেই ঘরে বসে আছে৷ সে তাকালো না সেই দিকে। ফার্স্টএইডের বক্সটা রেখে চলে আসার জন্য পা বাড়াতেই রাফিনের গলা শুনতে পেলো।

“ একটা কথা বলার ছিলো,,,,,, ”, বললো রাফিন৷

“আমার শোনার কোনো ইচ্ছে নেই। ” বলেই চলে যেতে চাইলে রাফিন সৃজনের হাত টেনে ধরলো৷ সৃজন রাফিনের পেটে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেই অস্ফুটস্বরে চিৎকার করে উঠলো রাফিন৷

“আহহহহ!! ”

“কি হয়েছে??? ”, বললো সৃজন।

“কিছু না। ”,বললো রাফিন৷

সৃজনের মনে পরে গেলো বাইক থেকে পরে যাওয়ার আগের কথা, যখন রাফিন খুব জোরে বাইক চালাচ্ছিলো,, তখন রাফিনকে থামাতে সে রাফিনের পেটে অনেক জোরে জোরে আছড়েছে,, খামচেছে,, শেষে তো তার হাতের শক্ত ধাতবের ঘরিটা দিয়ে খুব জোরে মেরেও ছিলো রাফিনের বুকে,, তাই তো রাফিন ব্যাথায় হ্যান্ডেল থেকে হাত সরিয়ে নেয়,,, আর বাইকটা নিয়ন্ত্রণ হারায়।

“আপনি পেটে ব্যাথা পেয়েছেন? ”

“না,, কিছু হয় নি৷ ”

“মিথ্যে বলছেন। ”

“সত্যি কিছু হয় নি। ”

“আমি দেখবো। ”

“মানে...! ”

“আপনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন৷ ”, বলেই রাফিনের দিকে এগিয়ে গেলো সৃজন৷

রাফিনের শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে দিলো সৃজন।

★★★ চলবে ★★★

17/11/2024

“নবাবসাহেব”
পঞ্চম ভাগ
Sid Ratul
---------------------------
রাফিন ঢালু পথ বেয়ে নামতে থাকলো নিচে। অনেকটা পথ নেমে আসার পর খুঁজে পেলো সৃজনের নিস্তেজ শরীরটা! রাফিন ছুটে গেলো সৃজনের কাছে৷ সৃজন অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। হাতের কিছু জায়গায় ছিঁলে গেছে৷ কপালের বাম দিকটায় অনেকদূর কেটে গেছে,, এখনো রক্ত পরছে৷ পরোনোর শার্টটার উপরের তিনটা বোতাম ছিঁড়ে গেছে। সৃজনের এমন নিথর অবস্থা দেখে আঁতকে উঠলো রাফিন। সৃজনের পাশে বসে, সৃজনের মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে ডাকতে লাগলো, “ নবাবসাহেব,,, ও নবাবসাহেব, চোখ খোলা না,,,, প্লিজ একবার চোখটা খোলো, আমি আর কখনো জোরে বাইক চালাবো না, প্রমিজ করছি,,,, একবার চোখটা খোলো,,,! ”

সৃজনের কোনো সাড়া নেই। রাফিন কি করবে, তা বুঝতে পারছে না। পাশেই একটা নহর দেখতে পেলো সে। রাঙ্গামাটির এই একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে,,,,,, আর কিছু থাক বা না থাক,,, কিছুক্ষণ পর পর পাহাড় আর ঝর্ণা ঠিকই আছে। রাফিন আর একমুহূর্তও অপেক্ষা করলো না।

রাফিন কোলে তুলে নিলো সৃজনকে৷ তারপর এগিয়ে গেলো ঝর্ণার দিকে।

বড় নয় নহরটি। আবার ছোটও নয়। সৃজনকে কোলে নিয়ে ঝর্ণার পাদদেশের একটা বড় পাথরে বসালো৷ সৃজন নিশ্চুপ হয়ে রাফিনের গায়ে হেলান দিয়ে, রাফিনের বুকে মাথা রেখে চোখ বুঁজে বসে আছে। রাফিন হাত দিয়ে কিছুটা পানি নিয়ে সৃজনের চোখেমুখে ছিটিয়ে দিলো৷ আস্তে আস্তে চোখ খুললো সৃজন৷
চোখ খুলেই তাকালো রাফিনের দিকে৷ রাফিনের তখন কি হলো জানি না, সৃজনকে সে টেনে নিজের বুকের কাছে নিয়ে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

“নবাবসাহেব, তুমি ঠিক আছো তো? ”, বলতে বলতেই কেঁদে ফেললো রাফিন।

সৃজন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো রাফিনকে৷ ধমকে উঠে বললো , “আমাকে মারতে চেয়েছিলেন, তাই না? ”

“নবাবসাহেব!! ”

“ডাকবেন না,,, নবাবসাহেব বলে আমাকে ডাকবেন না,,,, ”

“আচ্ছা,, রাগ হচ্ছে তো,, তাহলে রাগ করো,, কিন্তু নবাবসাহেব.... ”, কথা শেষ করতে দিলো না সৃজন।

“বললাম না,,, আমাকে নবাবসাহেব বলে ডাকবেন না,, কখনো ডাকবেন না। আর আমাকে জড়ায় জাপ্টে ধরেছিলেন কেন???? কোনো মাস্তানের সস্তা আদিক্ষেতা নেওয়ার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই,, বুঝেছেন!? ভবিষ্যতে কখনো এরকম কোনো কাজ করবেন না,!! আমি কোনো গুন্ডা মাস্তানের স্পর্শ সহ্য করবো না! ”

রাফিন চুপ করে রইলো। কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থেকে , তারপর বললো, “এখন কি ঘুরতে যাবে,,, অনেক কিছু,,,, ”

“থাক,,, যথেষ্ট হয়েছে,,,,,, আপনার মতো মাস্তানের সাথে ঘুরতে যাওয়ার থেকে বাসায় বসে থাকা অনেক ভালো। ফিরে যাবো আমি৷ ”, বলেই পাথরের উপর থেকে উঠে দাঁড়াতেই মাথাটা ঘুরে গেলো সৃজনের। পরেই যাচ্ছিলো,, তার আগেই রাফিন ধরে ফেললো তাকে৷

সৃজন রাগ দেখিয়ে বললো, “ধরতে হবে না আমাকে,,,, ছাড়ুন, আমি একাই আমার জন্য যথেষ্ট! ”

“চুপ!!!! তোমার ভাব দেখার জন্য তোমাকে নিয়ে আসি নি আমি!!”
”মেরে ফেলার জন্য নিয়ে এসেছিলেন, তা বেশ বুঝতে পারছি৷ ”, বিরক্ত নিয়ে বললো সৃজন।

“ বাসায় না পৌঁছা পর্যন্ত আমি যা বলবো তাই শুনতে হবে তোমাকে ”, বললো রাফিন।

“শুনবো না৷ ”

রাফিন সৃজনের কথা শুনলো না। জোর করে সৃজনে হাত ধরে আস্তে আস্তে উপরে উঠে গেলো। বাইকটা তুললো।

“আমি আপনার সাথে যাবো না। কিছুতেই যাবো না! ”, বললো সৃজন।

“চুপ! তাহলে কি হেঁটে যাবে নাকি???? রাত পেরিয়ে যাবে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে,, এখন কোনো গাড়িও পাবে না এদিকে! ”

সৃজন আর কিছু বললো না। হটাৎই বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে দেখলো সৃজন, রাফিন তার শার্টটা তুলে কোমড়ের কাছ থেকে বেল্টটা খুলতে শুরু করেছে।

সৃজন আঁতকে উঠলো। চারপাশে তাকিয়ে দেখলো অন্ধকার নেমে গেছে। জায়গাটায় খুব নির্জন, আশেপাশের দু-তিন কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ আছে কিনা সন্দেহ! ভয় পেয়ে ভাবলো, “মাস্তানটা তার প্যান্ট থেকে বেল্টটা খুলছে কেন??? প্যান্ট খুলবে নাকি?? প্যান্ট খুলে কি করবে???? হায় আল্লাহ, রক্ষা করো,,,,, এমন একটা জায়গায় আমাকে একা পেয়ে আবার বদবুদ্ধি মাথায় চেপেছে নাকি!!!!! ”

সৃজন কোনো ঝুঁকি নিলো না। বিপদ বুঝতে পেরেই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে শুরু করলো,,,

“ ও আল্লা রেএএএএএ,,,,,,,,,,,,বাঁচাও,,,,,, কেউ সাহায্য করোওওওওওও,,,,,,,,,,,,,ধর্ষওওওওণ,,,,,,, আমাকে ধর্ষণ করছেএএএএএ,,,,বাঁচাওওওওওও!!!!!!!!!!!!”, আর কিছু বলতে পারলো না সৃজন৷ তার আগেই সৃজনের মুখ চেপে ধরেছে রাফিন৷

“এই চুপ,,,,, কিসব বলছো,, পরে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছো নাকি? পাগলের মতো কিসব বলছো?? ”

“ছাড়ুন আমাকে,,,,,, আপনি কি ভেবেছেন,, হ্যাঁ,,, এমন ফাঁকা জায়গায় নিয়ে এসে আমার সাথে ওসব করবেন,,,,!! ”

“আরে কি বলছো এসব। আমি আবার কি করতে চাইলাম তোমার সাথে? ”

“তাহলে প্যান্ট খুলতেছেন কেন?”

“কিহ!!!প্যান্ট খুললাম কোই৷ বেল্টটা খুললাম। ”

“বেল্ট খোলা আর প্যান্ট খোলা একই কথা! বেল্ট যখন খুলেছেন, প্যান্টও নিশ্চয়ই খুলবেন, তাই না??? আপনার পেটে পেটে এতো কিছু ছিলো,,, তাই তো বলি অচেনা, অজানা একটা ছেলেকে নিয়ে কেন ঘুরতে বেরিয়েছেন! কিন্তু আমি তা হতে দেবো না৷ বাঁচাওওওওওওও,,, কে কোথায় আছো বাঁচাওওওওওওও,, পুলিশ,,,,, পুলিশ,,,,,,,,,,,,,, কেউ পুলিশ ডাকো,,,,,,,,,,,! ” আবারও চিৎকার শুরু করে দিলো সৃজন৷

“এই চুপ!!!!! আর একবার চেঁচালে কিন্তু যা ভাবছো,, সেটা সত্যি সত্যিই করে দিবো! ”, রেগে বললো রাফিন৷

সৃজন আর কথা বললো না। চুপ করে গেলো।

রাফিন বাইকে উঠলো। তারপর সৃজনকে বললো বাইকে উঠে বসতে। সৃজন বাইকে উঠে বসলো৷

রাফিন তার বেল্টটা দিয়ে সৃজনের কোমড়টা তার কোমড়ের সাথে ভালো করে বাঁধলো। সৃজন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“আমাকে এভাবে আপনার সাথে বেল্ট দিয়ে বাঁধছেন কেন? ”

“যাতে পরে না যাও। তোমার শরীর দূর্বল। যেকোনো সময় মাথা ঘুরে যেতে পারে,,,, মাথা ঘুরে চলন্ত বাইক থেকে পরে গেলে কি হবে জানো? তাই বেল্টটা দিয়ে তোমাকে আমার সাথে বেঁধে রাখলাম৷ ”

সৃজন আর কোনো কথা বললো না। রাফিনের পিঠের সাথে লেপ্টে বসে রইলো বাইকে। রাফিন বাইক স্টার্ট করলো।

★★★ চলবে ★★★

~~ভাইয়া ভাইয়া থেকে সাইয়া সাইয়া~~লেখকঃআমান আহমেদ পর্বঃ০৮****************************************অভিক হাটতে হাটতে প্রায় কো...
03/11/2024

~~ভাইয়া ভাইয়া থেকে সাইয়া সাইয়া~~
লেখকঃআমান আহমেদ
পর্বঃ০৮

****************************************

অভিক হাটতে হাটতে প্রায় কোচিংয়ে পৌছে গেছে।সে আরো কাছে যেতেই দেখে রাফসান কোচিং এর গেইটে দাঁড়িয়ে আছে।

অভিক রাফসানের কাছে গেলেই রাফসান বাইক থেকে নেমে গিয়ে অভিককে বলল :
-তুই ভেতর থাকে তোর স্যারকে বের করে নিয়ে আয়। ভেতরে যেন কোনো কথা না বলিস।

অভিক রাফসানের কথায় মাথা নাড়িয়ে কোচিং এর ভেতরে গিয়ে স্যারকে ডাকতে লাগলো।

অভিকের স্যার টেবিলে বসে কিছু কাজ করছিলো। অভিক ডাকায় তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে অভিককে বলল:
-কি অভিক কিছু বলবে নাকি?

অভিক কিছু বলবে এরিমাঝে রাফসান সেখানে হাজির হয় আর অভিকের স্যারকে বলল:
-স্যার একটু কথা ছিলো আপনার সাথে আমার।

অভিকের স্যার রাফসানকে চিনতে না পেরে অভিকের দিকে তাকায়। রাফসান তা বুঝে বলল:
-স্যার আমি অভিকের বড় ভাই।আর ও আর এডমিশন কোচিং করবে না।

অভিকের স্যার অভিকের দিকে তাকিয়ে কিছু বলবে অমনি রাফসান আবার বলতে লাগলো:
-আর স্যার হ্যাঁ ও প্রাইভেট আপনার কাছেই নিবে। তাই পরে দেখা হবে। এখন যাচ্ছি একটু তাড়া আছে তো।

এইবলে রাফসান অভিকের হাতটা ধরে টেনে সেখান থেকে নিয়ে চলে যেতে লাগলো।

অভিক কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু রাফসান এর কারণে সে বলতে পারলো না।

রাফসান অভিককে টেনে নিয়ে আসায় অভিক একটু রেগে যায় আর রাফসানের কাছ থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল :
-তুই এইভাবে আমাকে টেনে নিয়ে আসলি কেন? আমি কি কোনো ছোটো বাচ্চা। আমি তো বলছিলাম।

রাফসানও অভিকের দিকে চোখ রাঙিয়ে দিয়ে বলল :
-আর একটা কথা বল কিংবা চোখ রাঙিয়ে দে। দেখবি কেমন পাবলিক প্লেস এ থাপ্পড়াইয়া থাপ্পড়াইয়া কানের পর্দা ফাটাই তোর।

অভিক আর কোনো কিছু না বলে চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।এরপর রাফসান বাইকে উঠে বাইক স্টার্ট করে।

অভিক রাফসানের বাইকে উঠতে যাবে তার আগেই রাফসান অভিককে আটকে দিয়ে বলল :
-কি করতেছিস?

অভিক অবাক হয়ে রাফসানের দিকে তাকায় আর বলল:
-কী আর করতেছি বাইক উঠবো না।

রাফসান অভিককে তার বাইক থেকে অভিককে সরিয়ে দিয়ে বলল :
-তোকে আমি উঠতে বলছি কি?

রাফসানের কথায় অভিক একদম নিরব হয়ে যায়। সে আর কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে চলে যেতে লাগলো।

সন্ধ্যার পর পর,,,,,,

অভিক সোফায় বসে তার দাদির,অপি আপু আর মরিয়ম বেগমের কথা শুনছে।মহিলা লোকের হাজার রকমের কথা। এইসব শুনতে অবশ্য অভিকের ভালোই লাগে।

অভিক এবার মরিয়ম বেগমের দিকে তাকায়। তার মুখে বেশ হাসির ফোয়ারা দেখতে পাচ্ছে অভিক। প্রায় সময় বলে তারও একটা সঙ্গী দরকার।যদিওবা অভিক মরিয়ম বেগমের সঙ্গ দেয় কিন্তু অভিকের প্রায় সময় মনে হয় তাতেও তিনি খুশি নন। হাজার হলেও একটা বৌয়ের শ্বশুর শ্বাশুড়ি অনেকটা জায়গা দখল করে।

অভিক অনেকবার মাহমুদা খাতুন কে মানে তার দাদিকে বলেছে থাকতে কিন্তু স্বামীর ভিটে মাটি ছেড়ে আসতে তিনি নারাজ।

অভিকের এইসব কথার মাঝে ছেদ পড়ে তার গায়ে কোনো একটা কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে।

অভিক নিচে তাকিয়ে দেখে টিস্যু পেপার। যেটাকে পেঁচিয়ে গোল করে পাকানো হয়েছে আর সেটা দিয়ে অভিকের দিকে ছুড়া হয়েছে।

অভিকের বুঝতে বাকি রইলো না যে কে করেছে এইটা। অভিক পাশ ফিরে টেবিলের দিকে রাফসানের দিকে তাকালো।

রাফসান তার সব দাঁত বের করে অভিকের দিকে তাকিয়ে আছে।অভিক তাকানো মাত্রই রাফসান ইশারা করে অভিককে ডাকতে লাগলো।

রাফসান অভিককে এইভাবে ডাকায় অভিক সাথে সাথে মুখটা ঘুরিয়ে নেয়।

সেই দুপুর থেকে অভিকের অভিমান চলছে। সেই অভিমানটা অবশ্যই তাকে বাইকে না উঠানোর কারণে।

এইদিকে রাফসানও সেটা বুঝতে পেরে অভিকের অভিমান ভাঙাতে চাই কিন্তু অভিক কোনো কথায় বলছিলো না।

বর্তমানে,,,

অভিক রাফসানের কোনো কথা শুনলো না বলে রাফসান এবার মরিয়ম বেগমকে বলল :
-আম্মু একটু কফি বানিয়ে দাও না।

যেহেতু মরিয়ম বেগম গল্প করাই মগ্ন ছিলো তাই তিনি বিরক্ত হয়ে বলল :
-একটু পর ডিনার করবো। এখন কোনো কফি হবে না।

রাফসান এবার কিচেনের দিকে যেতে যেতে বলল :
-থাক এত বিরক্ত আমি নিজেই বানিয়ে নিবো।

এইবলে রাফসান আর একটু এগুবেই অমনি অভিক উঠে মরিয়ম বেগমকে বলল :
-তুমি থাকো বড় আম্মু।আমি কফি বানিয়ে দিচ্ছি।

অভিক এই কথা বলাই রাফসান তার রুমের দিকে যেতে যেতে বলল:
-ওকে আমার রুমে এনে দিস।

অভিক এবার মনে মনে রাগে ফোপাতে ফোপাতে বলল :
-এর আগে থেকেই এইটা ফন্দি ছিলো। দেখি কোনো কথা বলবো না।

এইবলে অভিক গেল কফি বানিয়ে রাফসানের রুমে।অভিক রুমে যাওয়া মাত্রই রাফসান অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো।

অভিকের আর বুঝতে বাকি রইল না যে রাফসান তার অপেক্ষা করছিলো।

অভিক কফিটা টেবিলে রেখে চলে যাচ্ছিলো ঠিক তখনি রাফসান দৌড়ে গিয়ে অভিকের সামনে দাঁড়লো।

অভিক রাফসানের দিকে তাকিয়ে দেখলো আর সে পাশ ফিরে চলে যেতে লাগলো আবার রাফসান অভিকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

রাফসান এইভাবে অভিকের পথ আটকে রাখাই অভিক রাফসানের দিকে তাকিয়ে থাকে চোখ রাঙিয়ে দিয়ে।

রাফসান এবার একটু মুচকি হেসে দিয়ে বলল :
-ও লে লে বাবুটা রাগ করেছে।রাগ করো না বাবু। ললিপপ খাবে।

এইবলে রাফসান অভিকের হাতটা ধরলো। রাফসান অভিকের হাতটা ধরাই অভিক একটু চেটে গেল আর রাফসানকে চোখ রাঙিয়ে দিয়ে বলল :
-এখন তুই কি মনে করেছিস? তুই হাত ধরে টেনে তোর কাছে নিয়ে যাবি আর আমি বাংলা সিনেমার নায়িকার মতো ছাড়ো ছাড়ো বলে বলবো যে কেউ এসে যাবে ছাড়ো আমাকে।

অভিকের দেখার ও কথার ভঙ্গি দেখে রাফসান ক্ষেপে যাই আর অভিকের হাতটা ঝাড়ি দিলো আর অভিকের মুখটা টিপে ধরে বলল:
-তোর কি মনে হয় এতদিন যাবৎ তুই থেকেছিস তাতে তোকে কিছু করতে পারতাম না বুঝি। তাছাড়া তোর প্রতি আমার জাস্ট ঘৃণা আসে আর কথা দিচ্ছি কোনো দিন যদি কোনো বড় ধরণের সমস্যা ঘটাস আমার পরিবারের তাহলে সেদিন দেখবি রাফসান কি করতে পারে।

এইবলে রাফসান মুখটা ঘুরিয়ে নেয় আর অভিকও কোনো কথা না বলে চলে যেতে লাগলো।

এরিমাঝে রাফসান বলে উঠলো:
-এক মিনিট ওয়েট ওয়েট।

রাফসানের কথা শুনে অভিক থমকে দাঁড়িয়ে যায়।রাফসান এবার হন্তদন্ত হয়ে অভিকের সামনে দাঁড়ালো।

অভিকের সামনে রাফসান দাঁড়িয়ে বলল:
-আচ্ছা তুই কি একটু আগে বুঝাইতে চাইলি যে তুই আমার মাকে তোর সম্পত্তি লিখে দিয়েছিস, আর অনেক বড় দয়া করেছিস।

অভিক রাফসানকে কিছু বলবে অমনি রাফসান নিজ থেকে হাত তালি দিতে থাকে।

অভিক রাফসানের এই কান্ড দেখে রেগে গিয়ে বলল :
-আমি কিছু বলি নি। তুই জিনিসটাকে তিল টাকে তাল বানাচ্ছিস আর আমাকে দোষারোপ করছিস?

রাফসান এবার অভিকের কাছে এসে রাগ দেখিয়ে বলল :
-ইউ মাই ফুট। কে রে তুই? জাস্ট আমার বাপ তোকে রেখেছে বলে তুই আছিস। আমার বাপ কয়েকদিনের জন্য এইখান থেকে কোথায় যাক জাস্ট দেখবি তোকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো।

অভিক আর রাফসানের কথা সহ্য করতে পারলো না তাই সেও রাফসানকে রাগ দেখিয়ে দিয়ে বলল :
-আমার বাপ মা মরেছে তাতে কি হয়েছে? আমি কি বলেছি নাকি আমি এইখানে আসবো। তোমরাই নিয়ে আসলা। আমি কালকেই ওপর তলাটা পরিষ্কার করে থাকবো সেখানে।

এইবলে অভিক চলে যেতে লাগলো আবার একটু থেমে গিয়ে বলল :
-আর বড় আব্বুও যদি না থাকতো তাহলে আমিও তোর ঘাড় ধরে বের করে দিতাম।

অভিকের এই কথা শুনে রাফসান একদম রেগে গিয়ে অভিকের গলা টিপে ধরে দেয়ালের সাথে লেপ্টে ধরে বলল :
-তোকে আমি আজকে মেরেই ফেলবো। খুব বাড়ান বাড়ছিস এই কয়েকদিন। খুব অবাধ্য হচ্ছিস। আর ঐদিন বাইকে উঠতে বললাম তখন যে ভাব দেখাইলি মন চাচ্ছিলো সেখানেই মেরে ফেলি।

অভিক এবার একটু কাশতে লাগলো তাই রাফসান ছেড়ে দেয় তাকে। অভিকেরও একটু রাগ হলো তাই সেও রাফসানের গলাটা চেপে ধরে দুই হাত দিয়ে আর বলল:
-তোকেও আজ আমি মারে ফেলবো। তোরও খুব ভাব বাড়ছে। আমি তোকে বলছিলাম না ঐদিন যে আমাকে শাসাতে আসবি না। আমার বড় আব্বু আম্মু আছে তারাই করবো,তুই না। শাসন করার হলে ঘরে বৌ আন আর তারে শাসন কর। তুই আমারে খাওয়াস না।

অভিকের এই কথা শুনে রাফসান আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না তাই সে অভিককে সপাটে একটি থাপ্পড় মেরে দেয় আর অভিকের কলার্ট ধরে বলল :
-একশবার শাসন করবো।এই পরিবারে থাকতে হলে আমার কথায় উঠতে হবে আর বসতে হবে। আর হ্যাঁ আমি থাকতে তোর স্বাধীনতা নাই।

অভিক এবার রাফসানের কাছে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল :
-থাকবোই না আমি এই বাড়িতে আমি। আর একবার যদি আমাকে টাচ করিস তাহলে দেখিস আমি কি করি?

এইবলে অভিক রাফসানের রুম থেকে বের হয়ে যায় আর রাফসান রাগে আরো ফোপাতে থাকে।

চলবে,,,,,,

31/10/2024

“ নবাবসাহেব ”
দ্বিতীয় ভাগ
Sid Ratul
------------------------------
সৃজনকে আসতে দেখেই হাসিমুখে এগিয়ে আসলেন শায়লা বেগম।
“সেই সকাল থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি। আগে হাতমুখ ধুয়ে নাও, তারপর খাবে। ”

“খালামনি, সারারাস্তা খেতে খেতেই এসেছি। এখন খাবো না রাতে খাবো৷ ”, বললো সৃজন।

“আচ্ছা, শাওন কই গেলো। তুমি আসলে, ও কোথায়? ”, বললেন শায়লা বেগম।

“ওহহ, শাওন ভাইয়া,, হা, আমাকে নামিয়ে দিয়েই কোথায় যেন গেলো। একটা কাজ আছে নাকি,, ”, আমতা আমতা করে বললো সৃজন। আসলে সে মিথ্যা বলতে পারে না। কিন্তু এখন যদি বলে যে শাওন ভাইয়া তাকে নিতেই যায় নি বরং নিজের একটা মাস্তান বন্ধুকে পাঠিয়েছে আমাকে নিতে, আর নিজে গেছে প্রেম করতে,, তাহলে তো হয়েছে,, শায়লা বেগম শাওনকে আর বাসায় ঢুকতে দিবে না।

শায়লা বেগম সৃজনকে একটা রুম দেখিয়ে বললো ফ্রেশ হতে।
সৃজন রুমে ঢুকে জানালাটা খুলে দিলো,,,, বাইরে তাকাতেই দেখলো সবুজ পাহাড় দেখা যাচ্ছে দূরে। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়৷
ঘুরতে এসেছে সে রাঙ্গামাটি। একসপ্তাহ সময় আছে তার হাতে। ভেবেছে পুরো সপ্তাহটা চুটিয়ে ঘোরাঘুরি করবে সে।

কিছুক্ষণ পর শাওন আসলো। সৃজনের ঘরে আসতেই সৃজন বললো,
“ভাইয়া, কোনো কথা শুনবো না, আগে ভাবীর পিক দেখাও,, তারপর অন্য কথা৷ ”

“আস্তে কথা বল। ষাঁড়ের মতো চেঁচাচ্ছিস কেন। মা শুনতে পাবে? ”

“ওসব কিছু জানি না,,, এখন পিক দেখাও৷ এমনিতেই নিজে না এসে একটা মাস্তানকে পাঠিয়েছো আমাকে আনতে,, সে তো রাস্তাতেই এক্সিডেন্ট করে আমাকে মারতে পারতো,,, সেই বিচারটাও নিবো আমি,, তবে এখন আগে ভাবীর পিল দেখাও,, ”

“ আচ্ছা,,, দেখাচ্ছি! ”

ফোন বের করে কয়েকটা পিক দেখালো শাওন। সৃজন দেখে বললো, “বাহ,, তোমার চয়েজ আছে বলতে হবে! ”

“তোকে কিন্তু সাহায্য করতে হবে? ”

“কি ”

“সেটা কাল বলবো। চল, মা খেতো ডাকছে। ”

সৃজন আর শাওন খেতে গেলো। শায়লা বেগম খাবার পরিবেশন করে খাওয়াচ্ছেন। শাওলা বেগমকে শুনিয়ে শুনিয়ে শাওন বললো, ”শোন সৃজন, কাল সকাল সকাল উঠবি,, তোকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। পুরো রাঙ্গামাটি তোকে ঘুরে দেখাবো৷ তাই সকাল সকাল উঠবি, বুঝেছিস? ”

“আচ্ছা ভাইয়া ”, খুশি হয়ে বললো সৃজন।

রাতে তো উত্তেজনায় ঘুমই আসছে না সৃজনের। পাহাড়, ঝর্ণা আরও কতকি!! ক্যামেরাটায় নতুন একটা মেমরী কার্ড ঢুকালো সৃজন। রাতটা পেরোনোর অপেক্ষায় সে।

***

সকাল সকাল সৃজনকে তাড়া দিয়ে উঠালো শাওন। মনে হচ্ছে যেন শাওনই ঘুরতে যাচ্ছে! সৃজন রেডী হয়ে নিচে আসলো। শায়লা বেগম শাওনকে বললেন, ”সবে তো সকাল সাতটা বাজে, ওকে ব্রেকফাস্টটা তো করতে দিবি নাকি? ”

“এখন সময় নেই মা। কত জায়গায় যেতে হবে। রাস্তায় কোথাও খেয়ে নেবো৷ আর ওকে তো রাঙ্গামাটির বিভিন্ন রেস্তরাঁর খাবারও টেস্ট করাতে হবে তাই না। ", বললো শাওন।

“আচ্ছা, তবে তাড়াতাড়ি ফিরিস তোরা! ”

“ফিরতে রাত হবে। জানো তো, কত জায়গায় যেতে হবে। ”

“আচ্ছা,, শোন,, ওকে দেখে রাখিস কিন্তু। ”

শাওন সৃজনকে নিয়ে চলে আসলো। বাইরে বেরিয়ে বাইকে উঠলো শাওন। সাথে সৃজনও।

বাইক নিয়ে কিছুদূর গিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো শাওন। সৃজনকে বললো নামতে। সৃজন নামলো। সামনে তাকিয়ে দেখতেই তার মেজাজটা গরম হয়ে গেলো৷ কালকের সেই মাস্তান ছেলেটা বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

“ভাইয়া, ওই মাস্তানটা কেন এখানে। আর তুমি বাইক থামালে কেন? ”, বললো সৃজন৷

“ভাই আমার। তুই একটু সাহায্য কর আমাকে। আজ সারাদিন ও তোকে ঘুরিয়ে দেখাবে,,, আমাকে যেতে হবে এখন মিথিলার কাছে,, একটু ইমার্জেন্সি আছে৷ ”

“আমি তাহলে ফিরে যাচ্ছি। এই লোকটার সাথে আমি যাবো না৷ ”

“এমন করছিস কেন? একটু সাহায্য কর না আমায়। তুই চলে গেলে আমি সারাদিন বাইরে থাকবে কিভাবে৷ একটু ঝামেলা হয়েছে। আমাকে যেতেই হবে। ”

“কিন্তু উনি ভালো না। বাইল জোরে চালায়। আর বাখাটে টাইপের। আমি যাবো না। আমি ফিরে যাচ্ছি। ”

“তুই আমাকে এভাবে বিপদে ফেলিস না রে। মিথিলা প্রেগন্যান্ট! ”

“কিহহ! ”

“খুব ঝামেলায় আছি। একটু বোঝ বিষয়টা। আজকে ওকে বিয়ে করবো বোধহয়! ”

“আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না কিন্তু! ”

“ কিচ্ছু বুঝতে হবে না তোকে। তুই শুধু রাত পর্যন্ত ওর সাথে ঘুরবি। তাহলপ আমিও রাত পর্যন্ত বাইরে থাকতে পারবো৷ আর ও খুব ভালো ছেলে। ”

“ তুমি সত্যি বিয়ে করবে!!! ”

“এখনও কিছু জানি না। তুই আর কথা বাড়াস না। আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। ”

সৃজনকে নিয়ে রাফিনের কাছে আসলো শাওন৷ রাফিনকে বললো, “ভাই, আমি ফোন না করা পর্যন্ত ওকে বাড়িতে নিয়ে যাবি না, বুঝেছিস! ”

“কোনো সমস্যা হবে না তো৷ তোর বাপ তো থানার ওসি। যদি তোকে খুঁজে পায়৷ কোন কাজী অফিসে যাবি। ”, বললো রাফিন।

“আমাকে নিয়ে যেন সন্দেহ না করে, তাই তো সৃজনকে ঘুরানোর নাম করে বাসা থেকে বের হয়েছি। মনে হয় না আমাকে খুঁজবে। ”, বললো শাওন।

“কোনো সমস্যা হলে ফোন করবি। ”, বললো রাফিন।

“তুই ওর খেয়াল রাখিস। ”, বললো শাওন৷

তারপর শাওন চলে গেলো৷ সৃজন হা করে তাদের কথা শুনছিলো এতক্ষণ ধরে৷

“বাইকে উঠুন নবাবসাহেব! ”, বললো রাফিন।

“ আমি কিছুতেই আপনার সাথে যাবো না। আপনি জোরে চালান। ”, বললো সৃজন৷ “আমি চলে যাচ্ছি। ”

“আচ্ছা, আস্তে চালাবো৷ ”

সৃজন আর কোনো উপায় না দেখে বাইকে উঠলো। রাফিনের থেকে একটু দূরে সরে বসলো সে। রাফিন মাঝারি গতিতে চালাচ্ছিলো, তাই রাফিনকে ধরলো না সৃজন। কিন্তু বেশিক্ষণ না ধরে থাকতেও পারলো না সে৷ পাহাড়ী রাস্তা। প্রচুর আঁকাবাকা, আর দুপাশে খাদ।
পাকা রাস্তা ছেড়ে মাটির রাস্তায় আসতেই ভয়ে বুক শুকিয়ে গেলো সৃজনের। দুপাশে খাদ। রাস্তাটা সরু৷

দু'হাতে রাফিনের কোমড় শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো সৃজন৷ বললো, “দেখে চালাবেন। পরে গেলে আর বাঁচবো না। ”

★★★ চলবে ★★★

“ নবাবসাহেব ”           প্রথম ভাগ Sid Ratul ------------------------“মিলেছে, প্রায়ই মিলে গেছে, কিন্তু ছবির থেকেও তো সামন...
30/10/2024

“ নবাবসাহেব ”
প্রথম ভাগ
Sid Ratul
------------------------
“মিলেছে, প্রায়ই মিলে গেছে, কিন্তু ছবির থেকেও তো সামনে বসা ছেলেটা বেশী সুন্দর! কি, ঠোঁটে তিল আছে? ”

সৃজন তার জিভ দিয়ে নিচের ঠোঁটটা একটু ভিজিয়ে নিয়ে দাঁত দিয়ে তার নিচের ঠোঁটটা কামড়ে মুখের ভিতর নিয়ে আসলো।
তার সামনে একটা অপরিচিত ছেলে দাঁড়িয়ে! দেখতে বখাটে টাইপের। কারণ ছেলেটার গলায় চেইন পরা। সৃজন ভালো করেই জানে যে যারা বখাটে টাইপের হয়, তারাই গলায় চেইন পরে৷

এমনিতেই ২০ মিনিট থেকে বসে আছে স্টেশনে! বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছে৷ অথচ তার ভাইয়ের কোনো আসার নাম গন্ধ নেই। রাঙ্গামাটির কিছুই চেনে না সে। তার বড় খালামনির বিয়ে হওয়ার পর একবার এসেছিলো রাগামাটি ,,, তাও তখন তার বারো বছর বয়স। আর আসা হয় নি রাঙ্গামাটিতে।

তবে তার খালামনির সাথে ভালোই সম্পর্ক তার। তার এক খালাতো ভাইও আছে,, নাম শাওন। তার সাথেও বেশ ভাব সৃজনের।

ট্রেন স্টেশনে আসের ১০ মিনিট আগেও কথা হয়েছিলো তার খালামনির সাথে!

“খালামনি তো বললো, শাওন ভাইকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এখনো আসে নি কেন? আর এই ছেলেটা কে? ”, মনে মনে বললো সৃজন।

” হ্যাঁ, ছেলেটার ঠোঁটেও একটা তিল আছে,,,,,, কিন্তু মালটাকে ছবির চাইতে বাস্তবেই বেশী সুন্দর লাগছে, ”

“Excuse me! আপনি কে? আর What do you mean by মাল! ”, রেগে বললো সৃজন।

“এই,, তোর ভাই তো দেখি কথাও বলতে পারে,,, আমি তো বোবা ভেবেছিলাম! ”, ফোনে কাউকে বললো ছেলেটা।

“ এই আপনি কে? আমার সাথে কথা বলুন। স্টেশনে মাতলামো করা হচ্ছে,,, লোক ডেকে গণপিটুনি খাওয়ালে সোজা হবেন আপনি? ”, বললো সৃজন।

ছেলেটা সৃজনের কথায় পাত্তা দিলো না। বললো, “ চলুন। আপনাকে নিতে এসেছি। আমার সাথে চলুন। ”

“আপনার সাথে যাবো মানে! কে আপনি? শাওন ভাইয়ার আসার কথা ছিলো, আপনি কে? ”

“ শাওনের ফ্রেন্ড আমি। আপনাকে নিতে শাওন আসতে পারবে না। ওর একটা কাজ আছে। তাই আমাকে পাঠিয়েছে। ”, বললো ছেলেটা।

“ বিশ্বাস করি না। আপনাদের মতো ধান্দাবাজদের আমি ভালো করেই চিনি। দাঁড়ান, আমি ভাইয়াকে ফোন করছি। ”, বলে শাওনকে ফোন করলো সৃজন। কিন্তু ধরলো না।

“ধরে নি তো,, বললাম তো যে ব্যস্ত আছে। গুরুত্বপূর্ণ কাজে গেছে। ”, বললো ছেলেটা।

“তাহলে খালামনিকে ফোন করছি,, নিশ্চিত হতে হবে তো যে আপনি ঠিক লোক! ”

সৃজন তার খালামনি মিসেস শায়লা বেগমকে ফোন করার জন্য নম্বর বের করতেই ফোনটা কেড়ে নিলো ছেলেটা।

“আন্টিকে ফোন করছেন কেন?আন্টি জানে শাওন এখানে এসেছে! ”, বললো ছেলেটা৷

“মানে? ”

“উফ! আপনাকে বোঝাই কেমনে! শাওন ডেটে গেছে। গার্লফ্রেন্ড ফোন করেছিলো। ইমার্জিন্সি কি নাকি হয়েছে, তাই শাওন আপনাকে আনার নাম করে বেড়িয়েছে,,,, আর আমাকে আপনাকে পিক করতে বলেছে,,, বুঝেছেন? ”

“হুমম,”, বললো সৃজন।

“তাহলে এবার চলুন নবাবসাহেব, আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আমি দায়মুক্ত হই! ”, বললো ছেলেটা।

“নবাবসাহেব! আপনি আমাকে নবাবসাহেব বলে ডাকছেন কেন? আমার একটা নাম আছে। ”

“জানি, জানি, শিজন না কিজন জানি,,? আরেহহ কি জানি নাম আপনার,,, বিজন নাহ,,, রিজন,,? যাইহোক,, নবাবসাহেবটাই ঠিক আছে আমার জন্য,, আমি বাপের দেওয়া নামে ডাকি না! ”

“ তাহলে আমিও আমার পছন্দমতো নামেই আপনাকে ডাকি,, কেমন,,,? মাস্তান,,, ঠিক আছে! ”, বললো সৃজন।

“ঠিক থাকবে না কেন? সবাই তো আমাকে মাস্তান বলেই ডাকে! ”, বললো ছেলেটা।

সৃজন আর কথা বাড়ালো না। ছেলেটার সাথে চলে গেলো।

“আমরা বাইকে যাবো?? রিকশা নেই এদিকে? ”, বললো সৃজন।

“ এটা রাঙ্গামাটি ,,,, আপনার ঢাকা শহর নয়। আট মাইল যেতে হবে,, বুঝেছেন। তাই রিকশার ব্যবস্থা করতে পারছি না। তবে নবাবসাহেব চাইলে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারি। ”, হেসে বললো ছেলেটা।

“ থাক লাগবে না। তবে বাইক আস্তে চালাবেন। ”, বললো সৃজন।

“ নবাবসাহেবের যেমন ইচ্ছে! ” বলেই হাসলো ছেলেটা।

সৃজন বিরক্ত হয়ে বাইকের পিছনে বসলো। মনে মনে শাওনকে দু'চারটে কথাও শোনালো, “উফ! ভাইয়া, নিজে না এসে একটা মাস্তান টাইপের ছেলেকে পাঠাইছো,,,,, ”

ছেলেটা গাড়ি স্টার্ট দিলো। তারপর বেশ গতিতেই চলতে শুরু করলো বাইক!

“এই আমি না আপনাকে বললাম আস্তে চালাবেন। গাড়ি থামন, আমি নামবো,,,! ”, ভয় পেয়ে বললো সৃজন।

“ঠেলাগাড়ির মতো যেতে পারবো না। ”, বললো ছেলেটা।

“আপনি রকেটের স্পীডে যাচ্ছেন। ”, বললো সৃজন।

“এটাকে রকেটের স্পীড বলে না নবাবসাহেব,,, রকেটের স্পীড দেখবেন। ”, বলেই ছেলেটা বাইকের গতি বাড়িয়ে দিলো কয়েকগুন!

সৃজন ভয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো ছেলেটার কোমড়। বললো, “ আপনি বাইক থামান, আমি নামবো! ”

“আপনাকে তো মাঝরাস্তায় নামাতে পারবো না,,, দায়িত্ব আছে না আমার একটা। একেবারে জায়গা মতো পৌঁছে দেবো আপনাকে! ”

“বুঝেছি, রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে,, তাইতো,? ”

“ হা হা হা, আপনি তো ভারী মজার মানুষ! ”, ছেলেটা বাইক থেকে তার হাতদুটো সরিয়ে শুণ্যে ভাসিয়ে দিয়ে বললো।

এটা দেখে সৃজন আরও ভয় পেয়ে গেলো। “ আল্লাহ রে আল্লাহ, এই,, এই আপনি হাত ছেড়ে দিয়েছেন কেন? মারতে চান নাকি আমাকে। ”

“চুপচাপ পিছনে বসে থাকেন,,,,, বুঝেছেন,,,, নাহলে হাসপাতালেই যেতে হবে। চিন্তা করবেন না, পাঁচ মিনিটেই পৌঁছে যাবো। ”, বাইকের হ্যান্ডেল ধরে বললো ছেলেটা।

সৃজন ভয়ে আঁকড়ে ধরলো ছেলেটাকে। মুহূর্তেই গন্তব্যে পৌঁছালো তারা।

খালামনির বাসার সামনে আসতেই ছেলেটার কোমড় ছেড়ে দিলো সৃজন। দ্রুত নেমে পরলো বাইক থেকে। ভয়ে ঘেমে গেছে তার শরীর। সেই সাথে ঘেমে গেছে ছেলেটার পিঠও।

“এভাবে কেউ পিঠের সাথে লেপ্টে থাকে,,, শার্টটা ভিজিয়ে দিয়েছেন একদম। ”, বললো ছেলেটা৷

সৃজন কিছু বলতে যাচ্ছিলো,, তখনি ছেলেটা আবারও বললো, “ তবে ঘামলে আপনাকে ভালোই লাগে! ”

সৃজন কথা না বলে চলে যেতে লাগলো। তখনি আবারও ছেলেটা বললো, “ নবাবসাহেব, আমার নাম রাফিন। তবে আপনি চাইলে মাস্তান বলে ডাকতেই পারেন। কিছু মনে করবো না। ”

সৃজন ঘুরলো, বললো, “ মাস্তানকে মাস্তান বলেই ডাকবো,, এতে আপনও কিছু মনে করলেও আমার কিছু যায় আসে না। ”

“আমি তাহলে আপনাকে নবাবসাহেব বলে ডাকবো, কেমন? ”

সৃজন উত্তর দিলো না। একরাশ বিরক্তি নিয়ে চলে গেলো বাড়ির ভিতরের দিকে।

★★★ চলবে ★★★

 #গুন্ডা বয়ফ্রেন্ড--লেখক:আমান আহমেদপর্বঃ০৫******************************************অপু ক্লাস শেষে বাইরে বেশ কয়েকক্ষণ ধর...
24/10/2024

#গুন্ডা বয়ফ্রেন্ড--
লেখক:আমান আহমেদ
পর্বঃ০৫

******************************************

অপু ক্লাস শেষে বাইরে বেশ কয়েকক্ষণ ধরে উকি দিচ্ছে।

নীল তার পিছনে চেয়ে আছে আর তার কান্ড দেখছে।

অপু একবার পেছন ফিরে নীলের দিকে তাকালো।

অপু দেখলো নীল একেবারে রুদ্র মুর্তি ধারণ করে রেগে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

অপু দাত কেলিয়ে বলল:
-নীল চল বাইরে চল?

নীল রেগে গিয়ে বলল :
-এতক্ষণ বাইরেই যেতে পারতিস। নাটক করে উকিঝুকি দেওয়ার কি মানে বুঝি না।

এইবলে নীল অপুকে ঠেলে চলে যাই।

অপু দৌড়ে গিয়ে নীলকে ধরে বলল:
-আরে এত রাগ করিস কেন? ঐ দেখ পেছন থেকে রিয়া আপু আসছে। চল উনার সাথে কথা বলি।

বিঃদ্রঃ রিয়া হলো তাদের দুই ব্যাচ সিনিয়র। কলেজের পাশে বাসা হওয়ার কারণে বেশ দাপট তার।

নীল পেছন ফিরে তাকিয়ে বলল:
-না থাক উনি আবার বেশি ভাব নেয়।

অপু নীলকে রেখে একটু থেমে গিয়ে বলল:
-আচ্ছা তুই তাহলে চলে যা। আমি একাই কথা বলবো উনার সাথে।

এইবলে অপু একটু রিয়া আপুর দিকে চলে যায়।

অপু চলে গেল বলে নীলও ওর সাথে গেল।

রিয়া তার বন্ধু বান্ধবী দের সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছিলো।

ঠিক সেসময় অপু রিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় আর সালাম দেয়।

অপুকে দেখে নীলাও হাসি মুখে সালাম নিলো।

অপু তখনি রিয়াকে বলল:
-আসলে আপু একটু কথা ছিলো আপনার সাথে।

রিয়ার সাথে যেহেতু তার বন্ধু বান্ধবী রা ছিলো তাই সে তাদেরকে একটু এগিয়ে যেতে বলে।

অপু এরপর বলল:
-আসলে আপু আপনি তো সিনিয়র তাই একটু যদি কিছু সাজেশন দিতেন তাহলে অনেক উপকার হতো।

রিয়া হাসিমুখে বলল:
-আচ্ছা বইটা দাও। আমি চেষ্টা করবো।

অপু একটু আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো আর বলল:
-আপু চলুন নিচে যাই। এইখানে অনেকের ক্লাস আছে তাই নিচে যাওয়াই ভালো।

অপুর কথায় রিয়া সম্মতি জানিয়ে যেতে লাগলো।

অপু আর নীলও তাকে অনুসরণ করে যেতে লাগলো।

নিচে এসে অপু একটু এগিয়ে গিয়ে রিয়াকে থামিয়ে বলল:
-আপু আপনি একটু থামেন। আমি এখনি আসতেছি।

এইবলে অপু চলে গেল একটু সামনে।

কাবির আর তার ঐ দুই বন্ধু যারা অপুকে ঐদিন মেরেছিলো তারা বসে আড্ডা দিচ্ছিলো।

এরিমাঝে অপু সেখানে যাওয়াই কাবির থ হয়ে দেখে থাকে অপুর দিকে।
অপু সেখানে যাওয়া মাত্রই সবাইকে সালাম দেয়।

অপু সালাম দেওয়াই কাবির খিক খিক করে হাসতে থাকে আর তার ঐ বন্ধুরাও হাসতে থাকে।

অপুও একটা রহস্যময় হাসি দেয়।

এরিমাঝে সেখানে রিয়া এসে কাবির ও তার বন্ধু দের উদ্দেশ্যে বলল:
-তোমরা এইভাবে হাসছো কেন? ও তো তোমাদের সালাম দিছে? কোনো জোকস শুনিয়েছি কি?

রিয়া যেহেতু একটু ভাব দেখায় আবার মেয়ে মানুষ তাই কাবির কিছু না বলে চুপ থাকে।

অপু চট করে বলল :
-আপু থাক উনাদেরকে কিছু বলবেন না।না হয় আমি বাজার করতে যাবো আবার তারা আমাকে মারবে।

অপুর কথায় রিয়া রেগে গিয়ে বলল:
-তোমাকে মেরেছে ওরা। এত ভাব ওদের থামো মজা দেখাবো।

এরিমাঝে কাবিরের এক ফ্রেন্ড বলল:
-আপু ও আমাদের গুন্ডা বলেছে তাই মেরেছি।

অপু জবাবে বলল:
-আমি বাজার করতে গেছি। তখন এমনভাবে ঘিরে ধরার কি কারণ ছিলো ভাই। তাছাড়া আপনারা আমাকে সেই শুরু থেকেই টার্গেট করে রেখেছেন।

অপুর কথা শুনে রিয়া বলল:
-গুন্ডামি করলে গুন্ডা তো বলবেই।

অপু রিয়াকে থামিয়ে দিয়ে বলল :
-আপু প্লিজ আপনি কিছু বলিয়েন, হয়তো আপনাকেও মারবে।

রিয়া রেগে গিয়ে কাবিরদের উপর তেড়ে গিয়ে বলল :
-আচ্ছা ঠিক আছে মার তো দেখি।তাছাড়া তোর(কাবিরকে দেখিয়ে) তো অনেক খবর জানি। কারে কারে কি কি করেছিস।

কাবির এবার দাড়িয়ে বলল:
-আপু এমনি ফাইজলামি করতাম ওর সাথে।

অপু বলল:
-কেন ভাই কলেজে পড়তে আসেন নাকি ফাইজলামি।আপনার সাথে কি আমার ফাইজলামির সম্পর্ক।

কাবির অপুর দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে।

রিয়া এবার অপুকে বলল :
-আচ্ছা শুনো এবার থেকে ও তোমাকে কিছু করে তাহলে ডিরেক্টলি আমাকে বলবা। আমার কাজ আছে একটু আমি গেলাম।

যেতে যেতে রিয়া কাবির ও তার বন্ধু দের দিকে তাকিয়ে চলে গেল।

কাবির আর তার বন্ধুরা অপুর দিকে রেগে তাকিয়ে আছে।

অপু একটু মুচকি হেসে কাবিরকে বলল:
-জান একটু শুনবা। একাকী কথা ছিলো তোমার সাথে।

অপুর কথা শুনে কাবিরের দুই বন্ধু কাবিরের দিকে তাকিয়ে রইলো আর কাবির তাড়াতাড়ি অপুর কাছে আসলো।

অপু এরপর কাবিরকে নিয়ে কলেজের এক কোণে গিয়ে দাঁড়ালো।

কাবির সেখানে আসলে অপু তার কাছে এসে বলল:
-কি আমার বয়ফ্রেন্ড দিলাম তো। তাহলে শোধ বোধ হয়ে গেল। বাট সরি কালকেও তোমাকে একটু ধুয়ে দিছিলাম আর আজকেও একটু ধুয়ে দিলাম। দুই বার হলো তাহলে।

এরপর কাবিরকে একটা গুতা দিয়ে বলল :
-আসলে বফ তো তাই একটু বেশিই দিতে হয়।

কাবির এবার রেগে গিয়ে বলল :
-এখন যদি ওরা একটু তোমাকে কিছু দেয় তাহলে তুমি কিছু মনে করবা না আবার।

এইবলে কাবির ইশারা করে তাদের ঐ দুই বন্ধুকে ডাকলো।

কাবিরের সেই দুই এসে অপুর কাছে আসলো।

অপু তাদের ভঙ্গি দেখেই বুঝলো যে তারা কিছু করবে অপুকে।

অপু এবার কাবিরের দিকে তাকিয়ে বলল :
-কালকের মাইরটা কোনো কারণ ছিলো না যদিওবা ভুলটা আপনাদের ছিলো কিন্তু যেহেতু আজকে আমার ভুল ছিলো তাই খেতেই পারি।

কাবির কথা বলবে তার মাঝে থাক এক বন্ধু অপুর মাথায় একটা বাড়ি মেরে বলল:
-বাহ বেশ বলেছিস তো। এখন তোরে মারবো আর তারপর তোর ঐ আপুকে ডাকিস তো দেখি কি করে উনি।

এইবলে ছেলেটা আরেকটা মারলো আমানের।

অপু মাথা নিচু করে কোনো কথা না বলে শুনছিলো।

এরিমাঝে কাবিরের আরেকটা ফ্রেন্ড এসে সোজা আমানকে সপাটে একটি থাপ্পড় মেরে দেয়।

এই অবস্থায় অপু সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে, কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া করে নি।

কাবিরের সে ফ্রেন্ডটা অপুকে মেরে রাগে গদগদ করতে করতে বলল :
-কই ডাক তোর ঐ আপুকে মেরেছি তো।

কাবির বুঝতে পারলো যে পরিস্থিতি কিছুটা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে তাই সে এগিয়ে তার বন্ধুকে আশ্বস্ত করছে।

এরি মাঝে কাবিরের অপর বন্ধুও অপুকে একটা থাপ্পড় মেরে বলল :
-নে আমিও মারলাম। এইবার তো ডাকবি নাকি।

কাবির আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না সে এবার তার দুই বন্ধুর হাত ধরে সেখান থেকে নিয়ে চলে যেতে থাকে।

অপুকে যদিওবা থাপ্পড়গুলো লেগেছে তবুও সে নিজেকে একটু ধরে রেখেছে।

এবার সে মাথা উঁচু করে দেখলো কলেজে তেমন কেউ নেই তাই কেউ দেখি নি।

অপু একটু সামনে তাকাতেই দেখে কাবির সেই দূর থেকে তাকিয়ে আছে তার দিকে আর তার ঐ দুই বন্ধু বাকি বন্ধুদের সাথে হাসি ঠাট্টা করে আড্ডা দিচ্ছে।

অপু কাবিরের দিকে তাকিয়ে একটু ঘৃণায় চোখটা সরিয়ে নিলো।

চলবে,,,,,,

24/10/2024

~~ভাইয়া ভাইয়া থেকে সাইয়া সাইয়া~~
লেখকঃআমান আহমেদ
পর্বঃ০৭

****************************************

মরিয়ম বেগম অভিককে খাইয়ে দিচ্ছে আর রাফসানও খাচ্ছে।

রাফসান চুপচাপ খেয়েই চলেছে।অভিক একবার উঁকি মারে দেখলো রাফসানকে।

রাফসানের এই নীরবতা অশনি সংকেত এর বার্তা।

এরিমাঝে আল আমিন সাহেব আসলো আর অভিক ও রাফসানকে ডাকলো।

তারা দুজনেই ফিরে পেছনে তাকিয়ে দেখলো একজন মেয়ে(রাফসানের থেকে বড়) ও একজন বৃদ্ধ মহিলা এসেছে।

তাদেরকে দেখে মরিয়ম বেগম উঠে বসে আর সাথে অভিক ও রাফসানও।

মরিয়ম বেগম ঘোমটা টেনে বৃদ্ধ মহিলাটির কাছে গিয়ে সালাম দিলো আর পা ছুতে গেল।

এরিমাঝে বৃদ্ধ মহিলাটি মরিয়ম বেগম কে আটকিয়ে হাসতে হাসতে বলল :
-আরে কি করে দেখ? সালাম দিয়েছো তাতেই হবে? এখন আর কি পায়ে ধরে সালাম করার দিন আছে।

মরিয়ম বেগম কিছু না বললেও আল আমিন সাহেব বলল:
-সেটা আমাদের নিয়ম না মা। আমরা যা ছোট থেকে শিখে এসেছি তাই করবো আর তাই করে আসবো।

এ থেকে বুঝি বৃদ্ধ মহিলাটি হলো আল আমিন সাহেবের মা আর রাফসান ও অভিকের দাদি মাহমুদা খাতুন।

মাহমুদা খাতুন এবার রাফসানের দিকে এগিয়ে এলো আর তার দিকে তাকিয়ে বলল:
-কি খবর দাদু ভাই? বড় তো হয়ে গেছ এইবার তো নাম বৌ আনতে হবে।

রাফসান কিছু না হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে থাকলো। এরিমাঝে মেয়েটা রাফসানের কাছে এসে বলল :
-দেখ দাদি দেখ। ভাইটা আমার লজ্জা পাচ্ছে।

এবার পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক মেয়েটির।মেয়েটি হলো আল আমিন সাহেব এর বড় মেয়ে অপি।সে রাফসানের থেকে বড়। বিয়ে হয়েছে তার।

এইসব নিয়ে এবার অভিকও বলল:
-লজ্জা পাবে না। নতুন বাইক নিয়েছে।এখন তো পেছনে মেয়ে নিয়ে ঘুরবে।

অভিকের এই কথা শুনে সবাই হাসলেও রাফসান বেশ চটে গেল কিন্তু সেটা প্রকাশ করলো না।

এইবার মাহমুদা খাতুন অভিকের কাছে এসে বলল:
-হ্যাঁ রে অভিক তুইও তো খুব সুন্দর হয়েছিস ভাই।আর একটু স্বাস্থ্য হয়েছে তোর।

এইবার অপি এসে বলল:
-হবে না। আমার বাপের যে খাচ্ছে। তাছাড়া আমার বাপ কি কম খাওয়াই।

অপির এই কথা শুনে অভিকের খারাপ লাগলেও অভিক একটা মুচকি হাসি দেয়।

অপির কথা শুনে আল আমিন সাহেব বলল:
-আহা অপি, এইসব কথা না বলাই ভালো। বাইরে থেকে এসেছো ফ্রেশ হও আগে যাও।

অপি জবাবে বলল :
-আব্বু আমি তো জাস্ট মজা করছিলাম।

এবার মাহমুদা খাতুন আল আমিন সাহেবকে বলল:
-তুই চুপ করতো খোকা।অপি তো ঠিকই বলেছে।

এবার অভির দিকে তাকিয়ে বলল :
-হ্যাঁ রে অভিক নিজের টাকাই পড়তেছিস ঠিকই আছে কিন্তু তুই যে খাচ্ছিস সেটার জন্য কি টাকা দিচ্ছিস।

অভিক কিছু বলবে এবার মরিয়ম বেগম বলল:
-মা থাকুক না এইসব। আপনারা বসুন। আসুন।

অভিক এবার বলল:
-আচ্ছা দাদি তোমরা বসো আমি এখনি আসছি।

এইবলে অভিক তার রুমে চলে যেতে লাগলো।

মাহমুদা খাতুন সোফায় বসে সবাইকে বলল:
-ওকে যা করার করতে দাও। বাধা দিও না।

যেহেতু মাহমুদা খাতুন একজন বৃদ্ধ মহিলা তাই কেউ আর উনার উপর কথা বললো না।

কিছুক্ষণ পর মধ্যে অভিক হাতে একটা কাগজ নিয়ে হাজির হলো।

রাফসান অভিকের দিকে একপলক তাকালো তারপর মুখটা ঘুরিয়ে নিলো।

অভিক মাহমুদা খাতুনের কাছে এসে তার সামনে কাগজটা রেখে দিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলল:
-এইটা দলিল। আমাদের গ্রামের বাড়ি তে যে পুকুরের পাশে জমিটা ছিলো যেটাতে আব্বু একটু সবজি চাষ করতো তা আমি বড় আম্মুর নামে লিখে দিয়েছি।

অভিকের কথা শুনে আল আমিন সাহেব কিছু বললো না কিন্তু মরিয়ম বেগম বলল :
-কেন রে তোকে আমি কি আমার ছেলের চেয়ে কম দেখেছি নাকি।

অভিক কিছু বলবে এরিমাঝে মাহমুদা খাতুন বলল:
-না বৌ মা। ও আমায় ফোন করে এই ব্যাপারটা আগে থেকেই জানতাম তাই তো আজকে আসলাম আর সাথে করে অপিকেও নিয়ে আসলাম। আর হ্যাঁ আল আমিন এর নামে লিখে দেয় নি কারণ অভিক বলেছিলো ওর বড় আব্বু কিছুতেই নিবে না। তাই তোমার নামে দিয়েছে।

এবার মরিয়ম বেগমের দিকে তাকিয়ে বলল :
-নাও সই করে দাও। বেশি কথা বাড়িও না।

মরিয়ম বেগম একপলক আল আমিন সাহেব ও অপির দিকে তাকায় তারা একটু সম্মতি দিলেও কিন্তু যখনি রাফসানের দিকে তাকায় তখন তিনি দেখলেন রাফসান অভিকের দিকে রেগে গিয়ে তাকিয়ে আছে।

মরিয়ম বেগম এবার উপায় না পেয়ে সেই দলিলে সই করে দেয়।

এবার মাহমুদা খাতুন অভিককে বলল:
-কখন করলি এইসব। পরশুদিন তো আমাকে বললি ফোন দিয়ে আর এর মধ্যে তাড়াতাড়ি করে নিলি।

অভিক জবাবে বলল :
-ঐ তো তোমাকে বলে তারপর উকিল আঙ্কেলের কাছে গেছিলাম। আর কালকে আসার পথে নিয়ে আসছি। বলছিলাম একটু ইমার্জেন্সি তাই দিয়ে দিছে।

মাহমুদা খাতুন বলল :
-যাক ভালো। এখন সবার উদ্দেশ্যে বলা যাক যে এইটা করতেই হতো না হলে এখন ভালো সম্পর্ক আছে তবে পরে সেই ভালো সম্পর্ক থাকবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেই জন্য এই পদক্ষেপ।

এবার আল আমিন সাহেব বলল:
-কিন্তু মা অভিক এখনও ছোটো। এইসব ওকে দ্বারা না করালেও পারতে।

মাহমুদা খাতুন বলল :
-ও ছোট আছে কিন্তু ওর চিন্তা ধারা ঠিক ওর বাপের মতো। সবটাই খেয়াল রাখে। ও নিজ থেকেই এইসব করেছে আর সেও আমাকে এইখানে আসতে বলেছে।

এবার অপি বসে বলল:
-হয়েছে হয়েছে এইসব বাদ। আমি সবার জন্য গিফট এনেছি।

এরপর অপি একে একে সবাইকে গিফট দেয়।এরপর অভিককে দিয়ে বলল:
-শোন ভাই যদিওবা কথা বলি কিন্তু তোকে আমি শুরু থেকে আমার ছোট ভাই হিসেবে মনে করেছি।

অভিক মাথা নিচু করে বলল :
-জ্বি আপু আমিও তো।

অপি বলল:
-আচ্ছা বাদ দে। কবে যাবি পরীক্ষা দিতে। আমি তোর দুলাভাই কে সব বলে দিয়েছি। আমিও যাবো তোর সাথে। পরীক্ষা তো একটু নার্ভাস লাগবে।আমি তোর দুলাভাইকে বলছি দুইটা টিকেট কেটে দিতে।

এরিমাঝে রাফসান একদম রেগে মেগে টগমগ করতে থাকে। এতক্ষণ যাবত সে চুপ করে সবকিছু শুনছিলো।

এবার রাফসান অভিকের দিকে আঙুল দেখিয়ে দিয়ে বলল :
-তুই যদি মনে করিস যে তুই বাইরে গিয়ে ভর্তি হবি, তাহলে এই আশা ভাঙবো আমি।আমি রাফসান তোকে আগেও বলেছি আর এখনোও বলছি তোর হাত পা ভেঙে দিবো কিন্তু কখনও বাইরে যেতে দিবো না।

এইবলে রাফসান হনহনিয়ে চলে যেতে লাগলো।

রাফসানের কথা শুনে সবাই চমকে গেল। এরপর অপি অভিককে বলল :
-কিছু করেছিস ওকে নাকি?

অভিক বলল:
-আরে না। ও আসলে বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করতে দিতে চাই না। তাই এমন করছে।

অপি বলল:
-এখন অভিক শোন তোর লাইফ তুই ডিসিশন নিবি তুই।এখন দেখ রাফসান যেহেতু চাই না যে তুই বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করিস, তাহলে না করলে কি সমস্যা বল দেখি। আমরা কি এইখানে পড়াশোনা করি নি।

অভিক বলল:
-আরে ও তো বলতে দিতো আমাকে। ও একটু বেশী বেশী রাগ করে খালি।আমি কি ভর্তি হতাম নাকি বাইরে।

মরিয়ম বেগম বলল :
-তাহলে যে রোজ রোজ কোচিং যেতিস।

অভিক বলল :
-হুম যেতাম। আমার সব বন্ধুরা পড়তাম আর একটু বোর লাগতো বাসায় তাই আর কি। এখন আর যাবো না।

আল আমিন সাহেব বলল:
-না যাবে না কেন? যাবে। এতে করে তোমার পড়ালেখাটা এগিয়ে গেল একটু।

এবার মাহমুদা খাতুন বলল :
-শোন দাদু ভাই বলতে গেলে তোর বড় চাচ্চুর পর রাফসান তোর গার্ডিয়ান। তাই ওর কথা মতো চলিস কেমন।

অভিক মাথা নাড়িয়ে আসতেছি বলে রাফসানের রুমের দিকে গেল আর সবাই সবার মতো গল্পে লেগে গেল।

রাফসান তার রুমের এককোণে দাঁড়িয়ে ফোন টিপছে। অভিকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে রাফসান আরো শক্ত হয়ে দাঁড়ালো।

অভিক এবার রাফসানের কাছে এসে রাফসানকে বেশ কয়েকবার ভাই ভাই বলে ডাকতে লাগলো।

কিন্তু রাফসান কোনো প্রত্যুত্তর করলো না।

অভিক আবার রাফসানের কাছে গিয়ে রাফসানকে একটা গুতো মেরে বলল :
-ঐ শুন না।

রাফসান এবার রেগে গিয়ে ফোনটা বিছানায় ফেলে দিয়ে বলল:
-এত না ডেকে কি বলবি তা বলে দূর হো তো।

অভিকও একটু রাগ দেখিয়ে বলল:
-ঐ শোন আমারোও আর কোনো ইচ্ছা নাই বাইরে পড়ার বুঝলি। তখন হুদায় রাগ দেখাইলো খালি।

রাফসান অভিকের দিকে তাকিয়ে বলল :
-ইচ্ছা থাকলেও কোনো করার নাই। দরকার হলে তোকে খুন করে জেলে যাবো তবুও বাইরে যেতে দিবো না।

অভিক রাফসানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল :
-কেন আমি বাইরে গেলে কি সমস্যা তোর।

অভিকের এই কথায় রাফসান কোনো প্রত্যুত্তর করলো না শুধু চুপ করে থাকে।

অভিক প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলল :
-দাদি আর অপি আপুর সামনে এইভাবে রাগ দেখাই আসলি কেন? ওরা কি মনে করবে এখন।

রাফসান রেগে গিয়ে অভিকের হাতটা ধরে টেনে রুম থেকে বের করে দিয়ে বলল :
-আমার আপনজন ওরা কি মনে করবে করুক। এত লেকচার দিতে আসে লোকে কেন? ভাগ এইখান থেকে।

এইবলে রাফসান অভিককে বাইরে বের করে দেয় আর অভিক রেগে গিয়ে চলে আসে।

বিকালবেলা,,,,,

ডাইনিংয়ে বসে আছে সবাই। মাহমুদা খাতুনের একপাশে বসে রাফসানও গল্প করছে।

অভিক কাধে ব্যাগ নিয়ে রুম থেকে বের হলো আর বের হয়েই রাফসানকে দেখে আটকে গেল। অভিককে বের হতে দেখেই রাফসানও অভিকের দিকে তাকালো।

অভিক এবার এগিয়ে এসে মাহমুদা খাতুন কে বলল:
-দাদি আমি একটু কোচিং গেলাম।

যেহেতু মাহমুদা খাতুন গল্পে মগ্ন ছিলো তাই তিনি অল্প কথায় অভিককে ছেড়ে দিলেন। এই ধরুন আচ্ছা যা, সাবধানে যাস আর তাড়াতাড়ি ফিরিস।

কিন্তু অভিক যে বাইরে যাচ্ছে তা রাফসানের মোটেও ভাল লাগলো না। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অভিকের দিকে তাকিয়ে আছে।

অভিক কোনো রকম করে একটু দ্রুত পায়ে হেঁটেই বাইরে বেরিয়ে এল।

অভিক এবার পেছনে তাকাতেই দেখে রাফসান তার পিছু পিছু আসছে। যা দেখে কেন জানি অভিক দৌড়াতে লাগলো।

অভিক দৌড়ানোর আগেই রাফসান অভিকের চুল ধরলো।রাফসান অভিকের চুল ধরাই অভিক ককিয়ে উঠে আর রাফসানকে বলল:
-সয়তান কুত্তা ছাড়। ও মা গো।

রাফসান অভিককে বলল:
-তোকে তখনি না বলেছি বাইরে গেলে একদম মেরে পা ভেঙে দিবো তারপরও বের হয়েছিস কেন?

অভিক বলল:
-কোচিং এ যে যাবো না সেটা বলে আসতে হবে না।

রাফসান অভিকের চুল ছেড়ে দিয়ে বলল :
-আমি বিশ্বাস করি না।

অভিক বলল:
-না হলে আমি কি করবো আমার জান দিয়ে দিবো নাকি?

রাফসান তার বাইকের কাছে যেতে যেতে বলল :
-আমিও যাচ্ছি তোর কোচিং এ। ঐখানে দেখা হবে।

এইবলে রাফসান বাইক চালিয়ে চলে গেল আর অভিক চোখ রাঙিয়ে দিলো রাফসানের দিকে।

চলবে,,,,,,,,,

Address

Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সমপ্রেম গোল্প ১৮+ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category