03/09/2014
plllz read
একটি সত্য ভালোবাসার গল্প
যা আপনার চোখে অশ্রু
এনে দেবে ।
আমি নিজের অশ্রুকেও
আটকে রাখতে পারিনি এই
গল্পটি পড়ার পরে.....
মেয়েটার ঠোটের কোণে তিল ।
আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে আছি আমি ।
খেয়াল করেনি সে ।
সুন্দরী মেয়েরা একটু
ইগো নিয়েই চলে । এই মেয়েটাও
সেই ধর্মের । আমার পাশের
লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ।
হাতে কলেজের বেতন স্লিপ ।
বুঝলাম মেয়েটা আমাদের
কলেজেরই ।
একটা বিষয় আমাকে নাড়া দিল ।
মেয়েটা এখন আমার
দিকে তাকিয়ে আছে । এটা কি !!
এক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে ।
আমার
ডাউট হচ্ছে । এত সুন্দর
মেয়ে আমার
দিকে তাকাবে কেন ?
নাকি আমার
কোন ভুল হচ্ছে ? হ্যা ,
আমি বোকা । ব্যাংকে সতের
স্পীডে এসি ছাড়া ,
এটা একটা ব্যাংক
।
খোলা আকাশের নিচে নয় । তাও
আমি সানগ্লাস পরে আছি । ভাব
দেখানোর
জন্যে না । ভুলে সানগ্লাস
পরে রেখেছি আমি ।
খুলে ফেললাম ।
উহু , তাও
মেয়েটা আমাকে দেখছে । এক
ধাপ ,
এক ধাপ করে এগুচ্ছি ক্যাশ
কাউন্টারের
দিকে ।
সুন্দরী মেয়ে দেখলে যেকনো পুরুষেরই
একটু ঝড় উঠে । আমারো উঠেছিল ।
যাক , আমি বেতন
দিয়ে দিলাম । ব্যাংকের
নিচে দাড়িয়ে কয়েক বন্ধু
সিগারেট
টানছিলাম । হটাৎ মেয়েটা ।
কিন্তু
মেয়েটার
হাতে সাদা ছড়ি কেন ?
আমার
মাথায় কিছুই ঢুকছেনা ।
মেয়েটা অন্ধ !!
আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম
না ।
এত সুন্দরী মেয়ে অন্ধ । সাথে তার
মাও ছিলো । আমার ভেতরটা কেমন
জানি করে উঠে । আমি মেয়েটার
পিছু
নিই । কিছু দুর যেয়েই
ফিরে আসি আমি । থাক , ও
তো আমাদের কলেজেই পড়ে । ছয়
তলা চারটা বিল্ডিং এরর
ক্যাম্পাসে খুজে পাওয়া কঠিন
কাজ
না ।
কলেজ
যেয়ে খুজে পাইনা তাকে । দু
চার দিন খুব খুজেছি আমি তাকে ।
পাইনি । ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল
পরীক্ষার কিছুদিন আগের কথা ।
পিজিক্স
ল্যাবে আমি একটা প্রেক্টিক্যাল
খাতা পাই ।
ইন্দ্রানী অপ্সরী জয়িতা নামের
এক
মেয়ের খাতা । সেশন , ইয়ার সব
পড়ে বুঝলাম যে এই
মেয়ে আমাদের
সাথেই পড়ে । ক্লাস মেট মেয়ের
সাথে আমার স্কুল জীবন থেকেই
বনিবনা খুব কম হতো । আর কলেজ
কম্বাইন্ড না , তাই কলেজে এসব
করার সুযোগ পাইনি কখনো । যাক ,
সুযোগ যখন আসলো কাজে লাগাই ।
আমাদের ডেস্কের উপর
লিখে রাখলাম , 'ওহে রমণী ,
আপনার
মূল্যবান প্রেকটিক্যাল খাতা ,
যা সম্পূর্ণ রূপে শেষ এবং স্যারের
সাইন করা , তা আমার কাছে ।
একচুয়ালি আমি মহামানব
বা বাংলা সিনেমার
হিরো হতে চাই না ,
তাই দৌড়ে আপনার খাতাও ফেরৎ
দিলাম না । কিছু মনে করবেন না । '
বাসায়
যেতে যেতে চিন্তা করছি খাতাটা আমার
বলে পরীক্ষায় চালিয়ে দিব ।
ডিপার্টমেন্ট এর হেড
কে মনে মনে বলছিলাম , 'মিসেস
আফরোজা ম্যাডাম , আপনি কত
বিটলা , তার চেয়ে দশ গুণ আমি ।
বহুত
চিল্লাইছেন , আমি প্রেক্টিক্যাল
করিনা , এখন
আমি আপনাকে দেখিয়ে দিব '
পরের
সপ্তাহের এই দিন এর
জন্যে অপেক্ষা করছিলাম । হ্যা ,
টেবিলে রিপ্লে দেয়া । 'প্লিজ
খাতাটা দিন , আমার খুব প্রবলেম
হবে । আর
লিখাটা আমি লিখিনাই ,
লিখেছে আমার এক বান্ধবী ।
আমি চোখে দেখিনা । প্লিজ ,
আমার
খাতাটা দিন । আমার সন্দেহ
হচ্ছিল
খুব । এ কি ওই মেয়ে নয় তো ? নাহ ,
থাক ঝামেলা করবো না ।
খাতা ফেরৎ
দিয়ে দিই ।
আমি টেবিলে লিখে দিলাম ,
'ওকে ,
ক্যান্টিনে ওয়েট করবেন
আগামী বুধবারে । দুপুর ২. ০০ ।
মেয়েটা অপেক্ষা করছে ,
আমি ভুলেই
গেছি । দৌড় দিলাম ক্যান্টিনে ।
পুরো ক্যান্টিন খালি । কোণায়
একটা মেয়ে বসে আছে । আমার
হাতে খাতা দেখে দৌড়ে আসলো ।
-আপনিই জয়িতার
খাতা নিয়েছেন ?
-জ্বি ।
-দিন ।
-আপনিই জয়িতা ?
-নাহ , আমি ওর ফ্রেন্ড । ও
আসে নিই ।
-সরি তাহলে দিব না । দেশের
মানুষের
গ্যারান্টি নেই ।
-মানে কি ?
-হ্যা , তাই ই । আপনার ফ্রেন্ড
কে ডাকুন ।
-বললাম তো আসবে না ।
-আমিও বলেছি দিব না
-আচ্ছা দাড়ান ,
দেখি আসে কিনা....
মেয়েটা আসলো । আমার চোখ ঝল
মল করে উঠলো । এ তো সে ,
যাকে আমি ব্যাংক এ দেখেছি ।
মেয়েটা চোখ
নাচাচ্ছে । আমি জানি সে অন্ধ ।
আল্লাহ শুধু তার এইটাই দেয় নি ।
আর সব দিয়েছে ।
লম্বা , সোনালী ত্বক , চিকন
আঙ্গুল , ঘন কালো চুল ,
লম্বা নাক,ঠোট,গোলগাল
পা সব দিয়েছে তাকে ।
আমি অভিভুত
হয়ে দাঁড়িয়ে আছি ।
মেয়েটা বলল ,
-প্লিজ খাতাটা দিন ।
কাপা কাপা হাতে আমি তার
দিকে খাতা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম
'নিন'। হাতে পেয়েই
খুশি হলো মেয়েটা ।
-আপনি আমার অনেক উপকার
করেছেন ।
-নাহ । সমস্যা নাই ।
-দাওয়াত রইলো । আমাদের বাসায়
আসবেন । আমার
মনটা আহল্লাদি হয়ে উঠলো ।
আচ্ছা আসবো ।
-আপনি কোন সেকশান ?
-A 5 আপনি ?
-এ ১০ ।
-আচ্ছা , আসবেন কিন্তু ।
-কিভাবে আসবো ? ঠিকানাই
তো নাই
।
মেয়েটা আমাকে ঠিকানা দিল ।
তবে যাইনি কখনো আমি ।
কলেজে যেয়ে প্রায়ই এ ৫
সেকশানে ঢু মারতাম । আমরা যখন
ঢুকি , মেয়েরা বের হয় তখন ।
জয়িতা সবার শেষে বের হতো ।
দরজার
সামনে দাড়িয়ে থাকতো তার
মা , তাই কখনোই কথা বলিনি ।
ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা ।
মেয়েটা সিড়ি দিয়ে নামছিল ।
মেয়েটা কে আমি দেখছিলাম
আমাদের
গেইট থেকেই । একা আসছে আমার
দিকে । কিন্তু
সে জানেনা আমি এখানে ।
সাদা ছড়ি দিয়ে সে এগুচ্ছে ।
-জয়িতা ।
-কে ?
-আমি ।
-আমি কে ?
-ওই যে প্রেক্টিক্যাল খাতা.....
-ও আচ্ছা , আমি তো আপনার নামই
জানিনা ।
-আবির ।
-কি খবর ?
-ভালো ।
-তুমি তো আমার বাসায়ই
গেলা না ।
-তোমার নাম্বার নাই ।
কিভাবে যাই ?
মেয়েটা তার নাম্বার দিল
আমাকে ।
কেন জানি খুব খুশি লাগছিল ।
রাতে কথা বলার পরম
ইচ্ছা নিয়ে ফোন দিই আমি।
কথা হয়
ও । স্বাভাবিক কাহিনী ।
মেয়েটাকে আমি তো ভালোবেসে ফেলেছি আগেই
। এখন বলার বাকি । সুযোগ
বুঝে কোপ মারি আমি ।
মেয়েটার জন্মদিন । আজই প্রপোজ
।
মেয়েটা রাজী হয়নি । কারণ
সে অন্ধ
।
আমি তাকে বললাম , তার
আলো হয়ে আমি থাকবো সারা জীবন
। তার পাশে চলবো । হ্যা ,
মেয়েরা আবেগ প্রবণ । কিছু
আবেগী কথা শুনে রাজী হয়ে যায়
।
এই মেয়েও ব্যাতিক্রম না । কিন্তু
আমি কি করছি ?
ভালোবাসা মানে তো ছেলেখেলা না ।
অন্ধ মেয়ে নিয়ে সারা জীবন
কাটাতে হবে ? মেয়েটার
সৌন্দর্যে আটকা পড়েছে আমার
বাস্তবতা ।
আবেগী হয়ে পড়ি আমি ।
ভালোবাসতে শুরু করি তাকে ।
তার
পরিবারকে আমি সব বলি ।
জানতে পারি মেয়েটার বাবা ও
অক্ষম
। মা সংসার চালায় ।
মেয়েকে নিয়ে কলেজে যায়
উনিই ।
-আন্টি ,
জয়িতাকে আমার.হাতে ছেড়ে দিন
।
আমিই
ওকে কলেজে আনা নেওয়া করবো ।
মেয়ের মা কিছু না ভেবেই
রাজী হয়ে গেলেন ।
হয়তো বা আমাকে বিশ্বাস করেই
রাজী হয়েছেন ।
মহিলা আমার
কথা শুনে কেদে দেয়ার
উপক্রম ।। হ্যা , কেন
জানি রাজী হয়ে গেল ।
আমি ওকে কলেজে নিয়ে আসি ।
প্রতিদিন সকাল সাতটায়
কলেজে আনতাম আর
সাড়ে এগারোটায় আমি কলেজ
থেকে তাকে তার বাসায়
পৌছে দিতাম । তার আর আমার
ভেতর ভালোবাসা ছিল । কিন্তু
কখনোই আমাদের ভেতর গভীর কিছু
হয়নি । আমি তার হাতটাও ধরিনি ।
যদি সে ভাবে তার অন্ধত্বের
সুযোগ
নিচ্ছি আমি !!
দেখতে দেখতে কিছু
দিন চলে যায় ।
আমার পড়ালেখা যথেষ্ঠ
অবনতি ঘটে । তাও আমি কেয়ার
করিনি । আমার কাছে আমার
জয়িতা সব । ইন্টার পরীক্ষার কিছু
দিন আগের ঘটনা । আমার এক বন্ধু
টিটকারি করে আমাকে 'অন্ধের
জামাই' বলে । আমি কষ্ট পাই খুব ।
মেয়েটাকে আমি ভালো করে তোমার
প্রত্যয় নিই । ইন্টার
পরীক্ষা চলে আসছে । মেয়ের
মা যদি টানা দুই মাস
ওকে আনা নেওয়া করে ,
তাহলে উনার চাকরী শেষ ।
আর
উনারচাকরী গেলে জয়িতারা কিভাবে চলবে ?
খুব চিন্তায় আছি আমি । কি করা ।
আমার মাথায় বুদ্ধি আসলো ।
পড়াশোনা যেহেতু
করিনি , সেহেতু পরীক্ষা দিব না ।
ওকে আমিই আনা নেওয়া করবো ।
মেয়েটাকে এসব বলতেই
কেদে দিল
সে । অনেক কষ্টে রাজী করালাম
তাকে । পরীক্ষা দিচ্ছে সে ।
আমি তার অভিভাবকের দ্বায়িত্ব
পালন করছি ।
আমার দুটো চোখ , ওর একটা ও না !!
এটা ঠিক না ।
মেয়েটাকে আমি একটা চোখ
দিয়ে দিব
। আমার চোখ
দিয়ে সে আমাকে দেখবে ।
মেয়েটার
ভেতর অস্বাভাবিক গূণ ছিল ।
পরীক্ষা দিবে আরেকটা মেয়ের
সহায়তায় । সে বলবে আর
আরেকটা মেয়ে লিখবে । ইন্টার
পরীক্ষার কিছুদিন পর
ওকে আমি একটা চোখ দিয়ে দিই ।
আমি আর ওর না ছাড়া কেউ
জানেনা । আমার জয়িতার আজ
অপারেশান । আমারো । আমার খুব
খুশি লাগছে ।
সে আমাকে দেখবে ।
মুখ লুকাবে আমার বুকের ভেতর ।
দুই দিন পর তার চোখ
ভালো হয়ে গেছে । আর সেটাই
বোধ
হয়.......
আমাকে হসপিটালের
বেডে দেখে
-আপনি কে ?
-জয়িতা আমি আবির মেয়েটার মুখ
ফ্যাকাশে হয়ে গেল । ওর
মা পাশে ছিল ।
উনি উঠে চলে গেলেন
।
-তুমি আবির ?
-হ্যা ।
-পরীক্ষা দাও নি কেন ?
-তোমার জন্যে ।
-তোমার বাসায় কেউ কিছু
বলেনি ?
-আমি কাউকে এখনো বলি নি ।
কিছুদিন পর , মেয়েটা কেমন
জানি হয়ে গেছে । আমার
সাথে ঠিক
ভাবে কথা বলেনা । ইন্টার
পরীক্ষার
রেজাল্ট পাবলিশড ।
মেয়েটা ভালো পয়েন্টই
পেয়েছে ।
আর সেটা আরেকটা কাল ।
জয়ির সাথে আমার শেষ কথা
-আবির ,
-হুম
-কিছু কথা বলার ছিল ।
-হুম
-আমি ইন্টার পাশ করেছি আর
তুমি আমার জুনিয়র ।
-হুম ।
-জুনিয়র সিনিয়রে কি রিলেশান
হয় ?
-মানে কি জয়ি !!
-তোমাকে আমার ভালো ও
লাগে না ।
আমি চেয়েছিলাম আমার লাইফ
পার্টনার যেন অনেক লম্বা হয় । বাট
তুমি মাত্র ৫.৬ !! আমি চুপ
করে আছি ।
-দেখ
আবির , কথা গুলো তোমাকে হার্ট
করলেও কিছু করার নাই । আমার
সাথে আসলে যায়না তোমার ।
আমি কিচ্ছু বলিনি । শুধু
মনে মনে বলছি , যেই চোখ
দিয়ে আমাকে দেখছ সেটাও
আমার । শুধু কিছু কথা বলে দিলাম ।
'ঠিকাছে জয়িতা । ব্যাপার না ।
ভালো থাকো ।
-তুমি আমার জন্য অনেক করেছ ।
আমার ফ্রেন্ড হিসেবে থাকো ।
আমি তাও কিচ্ছু বলিনি । শুধু
চেয়ে আছি তার দিকে । যার
পাশে বসে কাটিয়েছে দুই বছর আজ
তাকে ফ্রেন্ড হতে বলে ।
আমি ওকে বিদায়
দিয়ে একটা রিক্সায় তুলে দিলাম
।
শুধু একটা কথা জিগেস
করতে ইচ্ছে হলো , জয়ি, আর ইউ
সিরিয়াস ?
তাও জিগেস করিনি । আমার চোখ
যে কান্না করে দিবে ।
হয়তো চোখের
পানি দেখে আবেগী হয়ে উঠত
সে ।
ফিরে আসতে চাইতো । কিন্তু
সেটা ভালোবাসা না ,
সিম্প্যাথি হতো ।
আমি তো সিম্প্যাথি চাই না ।
আমি চাই এক টুকরো ভালোবাসা ।
ও
হয়তো কখনোই জানবে না যে চোখ
দিয়ে আমাকে দেখেছিল
সেটা আমারই
। আমি চাই ও না সে জানুক । তার
মাকে সবই
বুঝিয়ে বলে দিতে হবে ।
নইলে সে জেনেও যেতে পারে ।
একি !! আমি কাদছি কেন ? তাও
পানি বেরুচ্ছে একটা চোখ
থেকে ।
আরেকটা তো কৃত্রিম......!!
collected by